সুখ নীড়:রাধা দত্ত
শরতের উজ্জ্বল সোনালী রোদে এখন মিঠে ছোঁয়া হেমন্তের।রোদে বসলে গায়ে তাপ লাগে না বরং বেশ উপভোগ করা যায় উত্তাপটুকু।যদিও এখনো তেমন ঠান্ডা পড়ে নি তবু গাছের পাতা ঝরা শুরু হয়ে গেছে। গেটের দু পাশের চাঁপা গাছ দুটোকে কেমন নিঃস্ব মনে হচ্ছে, পাশের একফালি জমি, গর্ব ভরে যাকে বাগান বলেন পূর্নিমা সেখানে দু একটা মরসুমী ফুল ফুটতে শুরু করেছে। দারুচিনি গাছের পাতা গুলোতে ও লাল আভা। এতো সব আগে ভালো করে খেয়াল করেন নি সুপ্রকাশ। এতো বছরের পুরনো সব কিছুই যেন আজ নতুন করে ভালোলাগার রূপ নিয়েছে, এই গোল বারান্দা, সামনের একচিলতে বাগান, জুঁই ফুলের লতা জড়ানো গ্রীলের গেট, চাঁপা গাছ দুটো, সবকিছু কেই ভীষণ আপন মনে হচ্ছে, এদের ছেড়ে যাবার কথা ভাবলেই বুকের ভেতর রক্ত ক্ষরণ শুরু হয়। অবসরে যাবার বছর পাঁচেক আগে'সুখ-নীড়' নামের এই বাসস্থানটি তৈরি করেছেন। সুপ্রকাশের কর্মজীবন কেটেছে উচ্চপদে। তাই জীবনের বেশিরভাগ সময় সরকারি আবাসে কেটেছে। কর্মজীবনের শেষ প্রান্তে এসে পূর্ণিমার উৎসাহেই একটি স্থায়ী আস্তানা গড়েছিলেন, সেটিই পূর্ণিমার সযত্ন লালনে বাড়ি হয়ে উঠেছে।পরম মমতায় একটু একটু করে পূর্ণিমাই সাজিয়ে তুলেছে এই 'সুখ-নীড়'।যে কেউই প্রথম এই বাড়িতে পা রেখেছে , প্রশংসা না করে পারেনি।সর্বত্র ই রুচিবোধের ছাপ স্পষ্ট। অথচ আজ এই সাজানো সংসার ফেলে রেখে সাত সমুদ্র তেরো নদী পেরিয়ে যেতে হবে পূর্ণিমাকে।কে জানে হয়তো আর ফেরাই হলো না। সেদিনের সেই ফোন টা আসার পর থেকে সদা হাস্যোজ্জ্বল প্রগলভ পূর্ণিমা কেমন যেন চুপচাপ হয়ে গেছে। পারতপক্ষে সুপ্রকাশের সামনে আসছে না,আর সেজন্য তাদের খুনসুটি টাও জমছে না। আড়াল থেকে সুপ্রকাশ লক্ষ্য করছেন পূর্ণিমা নিজের খুব প্রিয় গেরস্থালি র টুকটাক জিনিস বিলিয়ে দিচ্ছে প্রতিবেশীদের। পাশের বাড়ির পুতুল পুতুল দেখতে মেয়েটি যার নাম আঁখি, পূর্ণিমার প্রায় সর্বক্ষণের সঙ্গী ছিল মেয়েটি তাকে নিজের অতি আদরের পুষির দায়িত্ব দেবে বলেছে।
--কি এত ভাবছো বসে বসে? কখন থেকে ডাকছি শুনতেই পাচ্ছ না!
সুপ্রকাশের ঘোর ভেঙে গেল। সত্যি তো সেই কখন থেকে হাতে খোলা খবরের কাগজ নিয়ে অন্যমনস্ক হয়ে বসেছিলেন।
--কিছু বলবে? যেন ঘুম ভেঙ্গে কথা বললেন সুপ্রকাশ।
--বলছিলাম যে মাছের ঝোলে ধনেপাতা দেব?
-- দিতে পারো কিন্তু তার আগে একটু চা যদি পেতাম তাহলে ভালো হতো।
'দিয়ে যাচ্ছি' বলে চলে গেল পূর্ণিমা। অন্যদিন হলে এই ধনেপাতা নিয়ে প্রচুর বাক্ বিতন্ডা হতো কারণ উনি খুব একটা পছন্দ করেন না ধনেপাতা, তারপর এই অসময়ে চা খেতে চাওয়া নিয়ে আরেক দফা খুনসুটি হতো, শেষ পর্যন্ত দুজনে একসাথে বসে চা খেয়ে তবে এর অবসান হতো। অবশ্য আজ সেসব কিছুই হলোনা কমলার হাত দিয়ে চা পাঠিয়েছে পূর্ণিমা,চা শেষ করে চান করে নিতে বলে চলে গেল কমলা। চুপচাপ একা একা বসে চা খেতে ভালো লাগছে না, কেমন যেন বিস্বাদ লাগে। আরো খানিকটা সময় রোদে বসে থেকে উঠে পড়লেন সুপ্রকাশ।
( ২)
দুপুরে খাবার টেবিলে বসে একটু অবাক হলেন তিনি, কারণ তার যা কিছু প্রিয় সব কিছু সাজিয়ে রেখেছে টেবিলে। মোচার ঘন্ট, বিউলির ডাল,আড় মাছের চপ,রুই মাছের ঝোল, এমনকি চিকেন ও রয়েছে। গত ছ'মাস আগে কার্ডিয়াক এ্যাটাক হবার পর থেকে মাংস একেবারে ছুঁয়ে ও দেখেন না সুপ্রকাশ। শুধু পাতলা ডাল,সব্জী সেদ্ধ আর হালকা মাছের ঝোল।এই নিয়েও দুজনের কম বচসা হয় না। মাঝে মাঝে রান্নায় তেল মশলা বেশি দিয়ে ফেলে পূর্ণিমা কারণ সুপ্রকাশ মশলাদার খাবার পছন্দ করতেন একসময়, কিন্তু এখন মোটেও খেতে চান না।আজ ও স্বভাবতই ভুরু কুঁচকে যায় তার।
--কি ব্যাপার?আজ দেখি ছাপান্ন ভোগের আয়োজন?
--আজ রাগ না করে খেয়ে নাও,বলা তো যায় না সামনের বছর হয়তো এই দিনে আমরা একসাথে থাকতে পারব না।
--আজ কি কোন বিশেষ দিন?
--আজ ২৬ শেষ কার্তিক
এতক্ষণে মনে পড়লো সুপ্রকাশের,আজ উনার জন্মদিন। বিয়ের পর থেকে প্রতিবছর এই দিনে সুপ্রকাশের পছন্দ মতো সবকিছু রান্না করে পূর্ণিমা, তবে আজ সাহস করে পায়েসের বাটি সামনে দেয় নি।
--এসব খাব আমি?
--আজ খাও আমি বলছি কিছু হবে না।
এবার আর কোন কথা না বলে ভাতের থালা টেনে নেন সুপ্রকাশ।
-- তুমি ও বসে পড়ো,আজ নয় একসাথে খাই।
জবাব না দিয়ে হাসলো পূর্ণিমা। একসাথে বসে কখনোই খান না দুজনে, দুই মেয়ে ও স্বামীকে খাইয়ে তবে নিজে খেতে বসে, কিন্তু আজ বসে পড়ল, হয়তো ভাবছে এই মুহূর্তগুলো যদি আর তাদের জীবনে ফিরে না আসে।
আজ আর অন্যদিনের মতো বিছানায় গেলেন না সুপ্রকাশ,ভারী খাবার খাওয়ার পর ভাতঘুম যোগ হলে ভীষণ অস্বস্তি হয়। শোবার ঘরের পেছনের দরজা খুললে পশ্চিমে টানা বারান্দা। শীতের দুপুরে এখানে বসলে শেষ বিকেলের রোদটুকু গায়ে মেখে নেওয়া যায়। পূর্ণিমা তাই একটা ইজিচেয়ার পেতে রেখেছে। একটা ম্যাগাজিন হাতে সেটাতে বসলেন।
শহর থেকে দূরে এই নিরিবিলি পরিবেশে ঋতুর আনাগোনা বেশ টের পাওয়া যায় ।সুপ্রকাশ অবশ্য প্রকৃতি প্রেমিক ছিলেন না কোনকালে , তবে সারাজীবন কাজের বোঝা পিঠে চাপিয়ে শহরের কোলাহলে জীবন যাপন করতে হয়েছে তাই বাড়ির জায়গা কেনার সময় শহরের উপকণ্ঠে এই জায়গাটা ভারী পছন্দ হয়েছিল। তবে মেয়ে দুটো নাক কুঁচকে ছিল, কিন্তু পূর্ণিমার উৎসাহের জোয়ারে ওদের আপত্তি ধোপে টেকেনি।
ম্যাগাজিনটা খুলে রেখে অলস চোখে দূরে তাকিয়ে আছেন সুপ্রকাশ। একটা ঘুঘু আকুল হয়ে তার সঙ্গী কে ডাকছে, মাঝে মাঝে দু একজন ফেরীওয়ালা র হাঁক ছাড়া একেবারে নিস্তব্ধ চারিদিক। পূর্ণিমা বোধহয় বসার ঘরে লো ভলিউমে মিউজিক চালিয়েছে, আগে এসময় পাড়ার কয়েক জন মেয়ে , বৌরা আসতো পূর্ণিমার কাছে সেলাই , রান্না এসব শিখতে । ওদের কথাবার্তা ও হাসি ঠাট্টায় মুখরিত হয়ে থাকতো পুরো বাড়িটা কিন্তু সুপ্রকাশের অসুস্থতার কারণে পূর্ণিমা এখন অন্য কোনো কিছুকেই প্রায়োরিটি দেয় না। আসলে স্বামী সন্তানের সুখের চেয়ে বেশি কিছু চাওয়ার নেই তার। দুই মেয়ে কে একাই মানুষ করেছে। নিজের কাজের চাপে সংসারের দিকে মনোযোগ দিতে পারেন নি সুপ্রকাশ, তাই সংসারে যাবতীয় ভালো মন্দের দায়িত্ব পালন করেছে পূর্ণিমা, সংসার ছাড়াও একটি নামী গার্লস স্কুলে প্রধান শিক্ষিকার দায়িত্ব পালন করেছে। দুই মেয়ে ই ওয়েল সেটেলড্,বড় মেয়ে জামাই দুজনেই ডাক্তার, ওরা দিল্লীতে পোস্টেড। ছোট মেয়ে ক্যালিফোর্নিয়ায় থাকে,জামাই কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার, মেয়ে ইন্টিরিয়র ডিজাইনার। দুজনেই খুব ভালো আছে। কাজের চাপে ফোনে কথা বলার সময় খুব একটা পায়না , তবে প্রতি সপ্তাহে ই-মেল পাঠায় মা বাবা কে।
সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতে বিকেলের শেষ আলোটুকু গায়ে মেখে ঘুমিয়ে পড়লেন সুপ্রকাশ।
(৩)
রান্নাঘরের সব গুছিয়ে , কমলাকে খেতে দিয়ে তবে কাজ শেষ হয় পূর্ণিমার। শোবার ঘরে এসে পানের বাটা নিয়ে বসলেন, এমনিতে পান খাবার অভ্যাস নেই তবে মাঝে মাঝে দুপুরে খাবার পরে একটু পান মুখে দিলে ভালো লাগে।নিজে একখিলি পান মুখে দিয়ে স্বামীর জন্য একটা পান নিয়ে এসে দেখলেন উনি ঘুমিয়ে পড়েছেন। ওর ঘুমন্ত মুখের দিকে তাকিয়ে ভেতরের চাপা কষ্ট টা আবার বেরিয়ে এলো। চল্লিশ বছরের বিবাহিত জীবনে স্বামীর মুখে এতো দুশ্চিন্তার ছাপ দেখেননি পূর্ণিমা, জীবনের প্রতিটি সমস্যা মিটিয়ে দিয়েছেন হাসিমুখে, কখনো ভেঙে পড়েন নি, এবার অ্যাটাকটা হবার পর থেকে মানসিক ভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে মানুষ টা।
সেই অভিশপ্ত দিনের কথা মনে পড়লে এখনো বুক কেঁপে ওঠে পুর্ণিমার, দিনটা ছিল দোসরা বৈশাখ, সন্ধ্যা বেলায় নিজের ঘরে বসে মেয়েদের মেল পাঠাচ্ছিলেন সুপ্রকাশ। পূর্ণিমা বসার ঘরে আসা অতিথিদের আপ্যায়ন করায় ব্যস্ত ছিলেন, হঠাৎ উনার ঘরে কিছু পড়ার শব্দ পেয়ে সবাই ছুটে গিয়ে দেখেন উনি অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছেন।পুর্ণিমার নিজের ও ভয়ে হাত পা ঠাণ্ডা হয়ে আসছিল,ভাগ্যিস প্রতিবেশীরা তখন ছিলেন বাড়িতে,ওরাই সব করেছেন।অ্যাম্বুলেস ডাকা থেকে হাসপাতালে র সব ঝক্কি ওরাই সামলেছেন। আসলে ওরা তো ভীষণ ভালোবাসে পূর্ণিমা ও সুপ্রকাশকে। পাশের বাড়ির রজত তো দিনরাত নার্সিং হোমে পড়ে থেকেছে, নিজের ছেলে নেই বলে রজতের প্রতি বরাবর দুর্বলতা ছিল পুর্ণিমার। আর রজত ও মাসিমণিকে খুব ভালোবাসে,এখন পর্যন্ত বাজার হাট সব করে দেয়। নিজের মেয়েরা তো ক'টা টাকা পাঠিয়ে নিজেদের দায়িত্ব পালন করে ফেললো । অদিতি না হয় বিদেশে, তার পক্ষে চট করে আসা সম্ভব নয় কিন্তু শ্রুতি কি মায়ের পাশে এসে দাঁড়াতে পারত না? সন্তানের কাছে মা বাবার কি কিছুই পাওয়ার নেই? শুধু নিজেদের উজাড় করে দেওয়া?
সেই ছেলেবেলা থেকেই ওদের সমস্ত আব্দার দুজনে মিটিয়ে দিয়েছেন হাসিমুখে , কোন ব্যপারেই অমত করেন নি কিন্তু এবার ওদের এই অনায্য দাবি কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না পূর্ণিমা সম্ভবত সুপ্রকাশ ও পারছেন না। তাই তো সবসময় গুম হয়ে বসে থাকছেন।
কথাটা প্রথম শ্রুতিই জানিয়েছিল, মাকে ফোন করে বলেছিল বাবার শারীরিক অবস্থার কথা চিন্তা করে সে বাবাকে দিল্লীতে নিয়ে রাখতে চায় , আর ওরাও বোকার মত ভেবেছিলেন বুঝি দুজনকেই দিল্লি তে নিয়ে যেতে চায় শ্রুতি। কিন্তু এরপর অদিতি লিখে পাঠালো সে নাকি এক্সপেক্ট করেছে, আগামী জানুয়ারিতে ডেট দিয়েছে ডক্টর তাই মাকে সে নিজের কাছে নিয়ে রাখতে চায়। দুই বোন মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে শ্রুতি এসে ওদের দিল্লি নিয়ে যাবে, এরপর ছোট জামাই এসে পূর্ণিমাকে ক্যালিফোর্নিয়ায় নিয়ে যাবে। ওদের মতে শ্রুতি যেহেতু ডাক্তার তাই বাবার দেখাশোনা সেই ভালো করতে পারবে।
মাথায় বাজ পড়েছিল পূর্ণিমার, চল্লিশ বছরের বিবাহিত জীবনে কখনো আলাদা থাকতে হয় নি ওদের আর আজ যখন সুপ্রকাশের শারীরিক অবস্থা ভালো নয় তখন দুজনকে দুই মহাদেশের বাসিন্দা হতে হবে? পূর্ণিমা মন থেকে মেনে নিতে পারছেন না কিছুতেই। কিন্তু সুপ্রকাশ মেয়েদের দুঃখ দিতে চাননি তাই ওদের প্রস্তাব মেনে নিয়েছেন। অথচ পূর্ণিমা ছাড়া আর কেউ কি সুপ্রকাশকে বুঝতে পারবে? উনি তো মেয়েকে মুখ ফুটে কিছুই বলতে পারবেন না। তাছাড়া এই বাড়ি এই পরিবেশ ওদের একান্ত আপনার, এখানকার মানুষ জন কতো আপন বরং দুরত্ব নিজের মেয়েদের কে অচেনা করে দিয়েছে।
পূর্ণিমা মনে মনে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন তাই হোক না কেন এখান থেকে কিছুতেই যাবেন না । এখানকার মানুষের কি অসুখ-বিসুখ হয় না?
(৪)
সুপ্রকাশের যখন ঘুম ভাঙ্গলো তখন সন্ধ্যা গড়িয়ে গেছে, ঘরে ঘরে আলো জ্বলছে,শঙ্খ বাজিয়ে সন্ধ্যা দিচ্ছে পূর্ণিমা, উঠতে ইচ্ছে করছে না ওর। পূর্ণিমা কখন যেন গায়ের উপর একটা চাদর দিয়ে গেছে, সেটা আরো জড়িয়ে নিয়ে গুটি গুটি হয়ে বসে রইলেন তিনি।
--কি গো ঘুম ভাঙ্গলো তোমার? ঘরে এসো ঠান্ডা লেগে যাবে তো।
--'যাচ্ছি' বলেও বসে রইলেন তিনি। আকাশে একটা দুটো করে তারা ফুটে উঠেছে , বাগানে শিউলি গাছে এখনও ফুল ফোটে বাতাসে তারই মৃদু সুবাস।ভারী ভালো লাগছে তার, ইচ্ছে করছে এই শিউলি সুবাসিত মনোরম সন্ধেটাকে বুকের ভেতর সংগোপনে রেখে দিতে। দিল্লি কিংবা ক্যালিফোর্নিয়া কোনখানে কি শিউলি ফোটে?
--ঘরে এসে সোফায় বসতেই চায়ের ট্রে নিয়ে ঘরে ঢুকলেন পূর্ণিমা।সুপ্রকাশকে দিয়ে নিজের কাপটা নিয়ে উল্টো দিকের সোফায় বসলেন। সবুজ পাড়ের সঙ্গে সাদা খোলের শাড়ি পরে আছেন, সৌন্দর্যের সাথে আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব দুই মিলে ওকে অপরূপা করে তুলেছে,সুপ্রকাশের নির্নিমেষ চাওয়া দেখে গাল দুটোয় লাল আভা ছড়িয়ে গেল পূর্ণিমার। উনি বুঝতে পারছেন স্বামীর মনে ঝড় উঠেছে, একসাথে এতগুলো বছর কাটিয়ে নিজের অজান্তেই স্ত্রীর উপর বড় বেশী নির্ভর শীল হয়ে পড়েছেন সুপ্রকাশ। আগামী সপ্তাহেই শ্রুতি দের আসার কথা।
--সারাদিন কি এতো ভাবছো বলতো? অনেকটা হালকা চালে বলেন পূর্ণিমা, সিদ্ধান্ত নেয়া তো হয়ে গেছে ওর।
--ভাবছি তুমি আমেরিকা চলে গেলে কার সাথে ঝগড়া করবো।
পূর্ণিমা বুঝতে পারছেন পরিবেশ হালকা করতে চান সুপ্রকাশ
---যেতেই হবে কি?
--না গেলে যে ওরা কষ্ট পাবে।
অসহায় কন্ঠে বললেন সুপ্রকাশ।
--দেখো আমি প্রথমে তোমার শরীরের কথা ভেবেই দিল্লি যেতে রাজি হয়েছিলাম কিন্তু ওদের ভাবনা যে অন্যরকম ছিল বুঝতে পারিনি।
--আমি আমার নিজের কথা ভাবছি না পূর্ণিমা, মেয়েরা বিপদে পড়েছে, শ্রুতির বাচ্চাটা ও ছোট
আয়ার কাছে থাকা নিরাপদ মনে করে না ওরা তাই আমি থাকলে ওরা নিশ্চিন্ত হতে পারে।
--সে ওরা খুঁজলে ভালো আয়া ঠিক পেয়ে যাবে, তুমি এখনি ওদের জানিয়ে দাও ওদের আসতে হবে না, আমরা এখন যাব না।
দৃঢ় স্বরে নিজের মত জানালেন পূর্ণিমা।ওর দৃঢ়তা দেখে অবাক হয়ে গেলেন সূপ্রকাশ কারণ মেয়েদের ব্যাপারে পূর্ণিমাই বরাবর স্পর্শকাতর ছিল অথচ আজ.........
--কথাটা আমার মনেও এসেছিল পুর্ণিমা, কিন্তু আমি ভেবেছিলাম তুমি রাজি হবে না।
--দেখো ওদের ব্যস্ত জীবনে আমাদের জন্য খরচ করার মতো সময় ওদের নেই, তাই আলাদা হয়ে একা হয়ে যাবার চাইতে এই কি। ভালো নয়? আমরা দুজন দুজনের হয়ে রইলাম আমাদের সুখ-নীড়ে।
শরীর মনট দুই ই ভীষন হালকা লাগছে সুপ্রকাশবাবুর, বুকের ভেতরের পাথর চাপা কষ্ট টা উধাও হয়ে গেল যেন। ধীরে ধীরে নিজের ঘরের দিকে পা বাড়ালেন এখন ই একটা ই-মেল পাঠাতে হবে।
0 মন্তব্যসমূহ