মোহনা
ত্রৈমাসিক সাহিত্যপত্র
দ্বিতীয় বর্ষ
তৃতীয় সংখ্যা
অক্টোবর :২০২২
সম্পাদক: কাজী নিনারা বেগম
প্রকাশনা: মোহনা প্রকাশনা
প্রকাশক: কাওসার জাহান প্রিয়া
নামকরন: বাসুদেব দত্ত, গোপাল চন্দ্র দাস
যোগাযোগ: কৈলাশহর
মোবাইল: 7628918445
Email- mohonasahithopotro@gmail.com
সম্পাদকীয় সমুদ্ভাসনা ‘
মোহনা’ সসীম-সৃজনী জ্যোতিকেই লালন করে । ‘মোহনা’ মানবিক রস-সন্দীপনার আভরণ-রূপমা ! ‘মোহনা’ মাঙ্গলিক সম্পূর্ণতার সবুজ ! শব্দ-বাক্যান্বয়ে তার প্রেরণা-শ্রীমণ্ডিত পরাগ ! চৈতন্যের আরাধনা তার প্রাণমোহন সৌরভে !
মানববিদ্যায়তনিক পুণ্যাভ সংবৃতি ‘মোহনা’র শোভিত দীপালোকে ! ফাগুনেরই ধ্যান-প্রেষণার অভিযাত্রিক ‘মোহনা’। ‘মোহনা’ প্রতিভাপ্রদীপ্ত পরিব্যাপ্তির বৃত্ত। অনুভব-অন্বেষা আর কল্যাণদর্শন ‘মোহনা’র চিদানন্দ-বিস্তারণে অভিনব-মুগ্ধতায় সঞ্জীবিত।
মোহনা’ জন-আত্মার বিভূষিত ভাব-অবয়ব। ‘মোহনা’ জন-মন-নন্দিত মুগ্ধতার সন্দীপ্ত সম্পদ। নিরুপম স্বস্তি-পারাবত ‘মোহনা’র প্রসন্ন শরণ ।
‘মোহনা’ আর্থ -সামাজিক-রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক সত্য-সঞ্চয়নেই শিল্পশ্রীমান। ‘মোহনা’ বর্তমান ও যুগাতীত মানবমহিমার দীপ্তিকেই ধারণ করে।
'মোহনা’ আবহমান সত্য ও সুন্দরের লীলাময় ব্যাকুলতাকেই ধারণ করে থাক ! জয়শ্রীমান হোক ‘মোহনা’ -- এই-ই অন্তরতর বাসনা !
ক|বি|তা|ক|বি|তা|ক|বি|তা|ক|বি|তা|ক|বি|তা
ক|বি|তা|ক|বি|তা|ক|বি|তা|ক|বি|তা|ক|বি|তা
ক|বি|তা|ক|বি|তা|ক|বি|তা|ক|বি|তা|ক|বি|তা
মা আমার এসেছিল কাল রাতে
শিবাশীষ মিত্র
মা আমার এসেছিল কাল রাতে ।
হাত বুলিয়ে গিয়েছিল মাথে ।
বসি শিয়র তীরে বারেক করিয়া আঁখি পাত,
মুখে বুকে বুলিয়েছিল হাত ।।
কি ঘুমে চেপেছিল হায়;
বারেক ডেকেছিল মায় ।
শুনিয়াও কেন উঠিনাই ।
চক্ষু মেলিয়া দেখিনাই ।।
দেখা বুঝি হলোনা মা'এর সাথে ।
মা আমার এসেছিল কাল রাতে ।।
জেগে দেখি ধরা মাঝে,
মায়েরই আবাহনী রাজে ।
আকাশ বাতাস জুরে আজি
তারই পদধ্বনি বাজে ।।
বিরহেরই সুরে ছেয়ে গেছে দিক ।
পাখিরাও গাইছে শাখে ।
দেখা বুঝি হলোনা মা'এর সাথে ।
মা আমার এসেছিল কাল রাতে ।।
.
ওরা উড়ুক মুক্ত বিহঙ্গে
আব্দুল গফফার
ওরা প্রেমের আদর গায়ে মুক্ত বাতাস নিতে চায়,
ওদের জীবনধারায় দখল নিয়েছি আজ।
ওরাতো উড়তে চায়, ডানা মেলে,
ওদের কেন বেঁধে রাখি খাঁচায় ধরে।
ওদের জন্য কত বড় আকাশ, কতশত বাতাস,
ওরা ঘোরে, বিশ্বভুবন ওড়ে।
ওরা জন্ম নেয় গাছের কোলে,
ওরা ঘুমায় পাতাবাহারের ডালে।
ওরা খায় মায়েরা এনে দিলে,
ওরা ওড়ে ডানা বড় হলে।
ওদের কেন করি বন্দী,
ওদের জন্য প্রয়োজন কেন ফন্দি।
ওরা নিস্পাপ, ওরা মুক্ত, ওরা শান্ত,
ওরা আমরা ফারাক ঘুঁচিয়ে-
ওদের দিইনা ছেড়ে, আলগা করে খাঁচা।
ওরা উড়ুক মুক্ত বিহঙ্গে অনাবিল আনন্দে।
জবালা
মধু মঙ্গল সিনহা
ভাঙা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে যখন
নিজেকে প্রশ্ন করি-
উত্তর আসে, তুমি হারিয়ে ফেলেছ সব কিছু।
কিছুই নেই তোমার
তোমার ভালোবাসা যেন অভিশাপ
মিথ্যা আশা প্রতিশ্রুতি
সব কিছুই মিথ্যা মরুভূমি মরিচিকা
পত্র বিহীন পর্ণমোচী তুমি।
তবু আশা যেন বেঁচে থাকে-
তুমি আছো আমি আছি
আমার কলম আর কবিতা
অশ্রু জলে সিক্ত কথার মাঝে।
নিয়ত প্রসূতি আমি জবালা।
ইচ্ছেকুসুম
অনিতা মুখার্জী
জন্মেছিল বীরভূমে
কর্মপাগল ছেলে।
মনের ভিতর ছিল ইচ্ছের ডালি,
স্বপ্ন পূরণে ছিল প্রাণপাত শ্রম,
জীবন বন্ধক দিয়ে।
যেথা অন্যায়, সেথা গর্জে ওঠা,
ছিল শ্রেষ্ঠ ইচ্ছেকুসুম।
প্রস্ফুটিত হলেই কুসুম,
নিতো কেড়ে অন্যায় কারীর ঘুম।
স্বভাবে নির্ভীক,
কর্মই ধ্যান জ্ঞান,
ছিল সদা সচেষ্ট,
রাখতে গুণীজনের মান।
কী জানি কেন?
হল ইচ্ছে ঈশ্বরের,
নিতে তারে কাছে টেনে।
হলাম নিঃস্ব মোরা,
জ্বলি বিরহ অনলে।
ইচ্ছেকুসুম দল রইল অপূর্ণ।
ওগো, বীরভূমের ছেলে-
এস ফিরে বীরভূমের ক্রোড়ে,
মোদের জীবন ঘিরে-
হই মোরা সব ধন্য।
আগুন কথা
রুদ্র মোস্তফা
চোখের ভেতর নদী থাকে, নদীর ভেতর আগুন
আগুন ছাড়া শূন্য লাগে জলের সকল ফাগুন।
যেই আগুনে আগুন চষে জ্বলে ছিলো আলো
সেই আগুনের ছোঁয়া ছাড়া সভ্যতা কার এলো!
প্রেমের ভেতর আগুন থাকে, ঘৃণার ভেতর আগুন
ফুলের ভেতর আগুন থাকে,ভুলের ভেতর দ্বিগুণ।
যেই আগুনে হৃদয় পুড়ে, সেই আগুনে আলোকিত
আগুন ছাড়া আঁধার কভু করে নাকো মাথা নতো।
বুকের ভেতর পাথর সমান আগুন থাকা ভালো
সেই আগুনে ঝরে মেঘের যতো কালো।
বুকের ভেতর থাকা ভালো অনুতাপের প্রহর
আগুন ছাড়া কে পেয়েছিল ব্যথার মতো সুখের নহর?
সমুদ্রসংসার
কুশল ভৌমিক
আমি সমুদ্র
আমার বউ সংসার
আমাদের মাঝখানে অনিবার্য সেতু
ঝুলিয়ে দিলো
আমাদের সন্তান।
এখন -
সমুদ্র ভেসে ওঠে সংসারে
সংসার সমুদ্রে ডুবে যায়।
গন্তব্য
শান্তনু ভট্টাচার্য
ফসলের মাঠ থেকে
একটা বড়সড় হাওয়ায় কুন্ডলী
অনেকগুলো চিঠি নিয়ে বয়ে গেল
গেরস্থালির দিকে-
তার থেকে ছিটকে এসে
নিঃশ্বাসের মতো একটা প্রতিবন্ধী বাতাস
পাকে পাকে জড়িয়ে ধরেছে একতারা।
তোমার চোখের ভরা নদীখাতে
অবগাহনের লোভে কাপড় কাচছি সাজি মাটি দিয়ে
পাড়ে রেখে এসেছি তেল আর গামছা।
গতরাতের বৃষ্টির কিছু নমুনা
আটকে আছে মানকচুর পাতায় পাতায়..
মাথার ওপর শুধু কয়েকটা রাতচরা পাখি
একটানা এলোমেলো উড়ে চলেছে
এ ডাল থেকে......... অন্য ডাল।
লাশ
রূপন মজুমদার
আজ দীর্ঘকাল পর
শ্মশানে একটি লাশ নিয়ে আসা হলো।
আমি দূর থেকে হিঙুল মেঘ উড়ে যেতে দেখি
দেখি নগর কির্তন।
যে শব কোনো মানুষের নয়
পৃথিবীর পথে হেটে যাওয়া
জিঞ্জির পড়া কোনো পথিকের।
উন্নমিত চোখ দুটো তুলে..
চেনা অভ্যাসে উড়ছে মাথার উপর কেউ।
আর কেউ ডুর হাতে, আজন্ম অপেক্ষায়।
কখন পুড়বে?
চুল্লিমুখর স্তব্দ গণশশ্নানে বয়ে আনা সেই লাশ ।
শুকুনের দল জানে না
লাশের সাথে পুড়ে না তার ছেঁড়া অস্তিত্ব।
অবশেষে,মহাশশ্মানের বুকচিরে
স্নিগ্ধ নদী ধূয়ে নিয়ে যায় পোড়া ছাই গুলো।
পৃথিবী খানিকটা হালকা হলে..
কবি তার ঘরে ফিরে
নয়তো হারায় ফেরি পথ।
লাশ ছাড়া কিছুই দেখেনা সে রাস্তায়
ধূপ ধূনোয় আর একটা সুঘ্রাণের পাশে
শুয়ে আছে নিজের লাশ।
গন্তব্য
শান্তনু ভট্টাচার্য
ফসলের মাঠ থেকে
একটা বড়সড় হাওয়ায় কুন্ডলী
অনেকগুলো চিঠি নিয়ে বয়ে গেল
গেরস্থালির দিকে-
তার থেকে ছিটকে এসে
নিঃশ্বাসের মতো একটা প্রতিবন্ধী বাতাস
পাকে পাকে জড়িয়ে ধরেছে একতারা।
তোমার চোখের ভরা নদীখাতে
অবগাহনের লোভে কাপড় কাচছি সাজি মাটি দিয়ে
পাড়ে রেখে এসেছি তেল আর গামছা।
গতরাতের বৃষ্টির কিছু নমুনা
আটকে আছে মানকচুর পাতায় পাতায়..
মাথার ওপর শুধু কয়েকটা রাতচরা পাখি
একটানা এলোমেলো উড়ে চলেছে
এ ডাল থেকে......... অন্য ডাল।
অশ্রুনদীর বন্যা
মিঠু মল্লিক বৈদ্য
নীল আকাশের নিমন্ত্রণ; সাড়া দিতে
ছুটে মুক্ত বিহগের মতো
সকল নিস্বতার সীমা পেরিয়ে।
সমুদ্রের অতলে তলিয়ে খোঁজে কাঙ্ক্ষিত মুক্তা,
বালির 'পরে বিছায় অনন্ত বিশ্বাসে।
সোহাগ চাদরে লেপটে চির শান্তির কোলে
হারানোর অভিলাষে নিঃশব্দ যাপন ,
সুখ প্রদীপ হাতে পৃথিবী পরিক্রমণ
দুঃখের আস্তর উপেক্ষা করে ;
তবুও খুশী রাখা সাধ্যের বাইরে।
শ্রী-হীন তকমায় বিভূষিতা , অপমানের গ্লানি মেখে
গড়াগড়ি খায় অন্ধকারে ; পৃথিবীর রঙ্গিন আলোয়
সকল সন্তাপ ম্রিয়মাণ ; অদ্ভূত হাসিতে
অন্তর্ভূত দশের মাঝে সম্মানের দাবীতে ,
চাপা কান্নায় প্রাণ ওষ্ঠাগত ; অশ্রুনদী গড়িয়ে যায় অন্তরালে।
একটু একটু করে নদী বেগবতী হয়
সকল অপমান গোগ্রাসে গিলে উদরপূর্তির নেশায়
মাতাল করে তোলে মন, ক্লান্ত বিধ্বস্ত মনে
ছুটে এদিক ওদিক, শেষে অন্ধকারে একান্ত নির্জনে
অশ্রু নদীতে নামে বন্যা ; সেই বন্যায় ভেসে যায় অনন্ত প্রেম।
সরলরেখা
সঙ্ঘমিত্রা নিয়োগী
ভেঙে যাচ্ছে কাচের মতো
মনে হয় ভাঙার শব্দগুলো ঋণ করা
আগে থেকেই
ঘর কাঁদছে বুকের ভেতর
মায়ের আকাঙ্খা খেলছে চোখের কোণে;
মন্দোদরী সকালের কপালে
নাচছে খিলখিল হাসি
বাবার অদেখা কিছু স্বপ্ন।
স্তূপ হয়ে যাচ্ছে মায়া
হাওয়া গন্ধ শুঁকছে সময় প্রতিবন্ধকতার
কত নিস্তব্ধতা ঘুম পাড়িয়ে দিয়েছি
বিষন্নতায় জমে যাওয়ার আগে,
বিনিদ্র রাতের এমন ভাণ করে
আসা-যাওয়া হয়,
কত মুখ এভাবে দিন কেড়ে নিয়েছে
কিন্তু আমিতো শুধুমাত্র সরলরেখা ।
মানসিক রোগী
বিধর্না মজুমদার
চারপাশের ভাব গুলো
কেমন যেন অচেনা অচেনা।
স্পষ্ট ভাষায় বলতে গেলে
এর সাথে জীবনের কোনো মিল খুঁজে পাই না;
বরাবরের মতো অবাস্তব মনে হয়।
বাস্তবতা খুঁজতে গিয়ে ভুলভ্রান্তির পাহাড় মাথায় পরে,
আমি চেয়ে থাকি! মানসিক রোগীর মতো।
যে মানসিক রোগী কখোনোই সুস্থ্য হয়না,
বুকে হাজার হাজার ব্যাথা পোষে রাখতে রাখতে
একদিন ব্যাথার সংঙ্ঘাটাই ভুলে যায়।
অবান্তর কথা বলতে বলতে
একদিন স্থির হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পরে।।
বেঁচে থাকার গান
সুমিতা বর্ধন
সমস্ত অভিযোগের উর্দ্ধে উঠে
জীবনের অভাব গুলোকে মানিয়ে নিতে শিখছি ,
চাওয়া পাওয়ার সমীকরন গুলোকে ভুলতে চেষ্টা করছি,
একান্তই আমার কথাটাকে মনের ভেতরেই মেরে ফেলার চেষ্টা করি,
হাতে হাত রেখে নদী, পাহাড় দেখার চরম ইচ্ছাটাকে দাবিয়ে রাখার চেষ্টা করছি,
তোমার সাথে একান্তে সময় কাটাবার লোভটাকে সংবরন করতে পারছি বোধহয়,
পাশে আছি এই অবান্তর কথাটা-
শোনার চেয়ে না শুনেই আনন্দ পাই বেশি,
স্বার্থহীন পৃথিবী নিয়ে বাঁচবো
কথাটাকে অবিশ্বাস করতে শিখে গেছি এখন,
দরিদ্র অসহায়ের জন্য কারো মন কাঁদে কথাটা শুনলে হাসি পায় কারন-
খবরের কাগজে বা বোকাবাক্সের পর্দায়-
সেই খবরের ফিরিস্তি চাউর হতো না যে তবে আর,
বেকার গুলো চেঁচাবে, ডেপুটেশনে ,ধর্নায় বসবে
খুব স্বাভাবিক ভাবেই মানতে শিখে গেছি,
সংসারের ঘানি না টানতে পেরে
ওই ছেলেটা গলায় দড়ি দেবে যে
সে কথা আমি কেনো রাজা, মন্ত্রী উজিরও জানে।
দুর্গা পূজার লক্ষ্য টাকার ঝাড়বাতির নীচে যে
ঝুপড়ি ঘরে অভুক্ত মানুষ গুলো রয়েছে,
সেটাকে নিয়ম ভাবতে শিখে গেছি
শ্বশুর বাড়িতে মেনে নাও আর মানিয়ে নাও
বলতে গিয়ে বউটি একদিন আগুনে যাবে
সেটা আমি কেনো সবাই জানে।
তোমার চোখে আমার স্বপ্ন দেখতে আর ভালো লাগে না
কোন অভাব, অভিযোগ ছাড়াই
জীবনটাকে হ্যাঁ তে হ্যাঁ মিলিয়ে
চলার চেষ্টা করতে করতে
একসময় দ্বিধান্বিত মনে ভাবি
বেঁচে আছি তো ?
ঋতুশোক
চয়ন সাহা
কুয়াশা ছুঁয়ে গেছে শীতের সকাল ঝাপ্সা করেছে আঁখি,
তোমার দেশে ভালোবাসা নামুক- অপেক্ষায় আমি এক পরিযায়ী পাখি।
আমার দেশে বসন্ত আসে নি বর্ষা এনেছে প্লাবন,
চোখের পাতা শুকিয়েছে তবু ভেতরে ঝড়ছে শ্রাবণ।
চিরসত্য
তাপস দত্ত
দুচোখ মেলে খোলা জানালায় দাঁড়িয়ে,
এক ফালি মেঘ ভাসে, ঝির ঝির বৃষ্টি ঝরে,
উঁকি দেয় রবির কিরণ।
হৃদয় আঙ্গিনায় অজস্র প্রশ্নের সমাহার,
আমার করনীয় আর কি কি বাকি!
উওর যদি খুঁজে পেতাম!
সেই দূর সীমানায়, খুব ইচ্ছে করে, এক বার ছুঁতে যাই।
সে সীমাহীন নীল দিগন্তের আঙ্গিনা, আমি খুব ভালবাসি ।
বিন্দু বিন্দু বৃষ্টির অনুভূতি
নিঃশ্বাসের মৃদুমন্দ হাওয়া,
কম্পিত হৃদয় বাগিচায় পেলব ছড়িয়ে ।
প্রতিটি নিঃশ্বাসে শুধু বেঁচে থাকার আকুতি,
দরজায় দাঁড়িয়ে ভাবি, যেতেতো হবে ফিরে।
এই রাতে! হয়তো সময়ের অপেক্ষা।
ফাঁকি অসম্ভব, মৃত্যু চির সত্য।
হতাশ হয়ে কি হবে, যেতে তো হবেই একদিন।
শুধু কাজ গুলি একবার সারি,,,,।
বৃহন্নলা
কাজী নিনারা বেগম
আজ কোথায় আলোর মিছিলের সমাবেশের কারিগররা,,
তোমরা কি বৃহন্নলা নাকি কিন্নর?
তোমরা রোদালি দিয়ে কান্না করা্চ্ছ।
পাড়ায় পাড়ায় জল্লাদের আস্ফালনে সমাজের কলূষিত মানুষ বিভ্রান্ত,,
নরপিশাচের রক্তমাখা থাবায় খসে্ খসে পড়ছে সেই মানবতার চাদর ট্রেক।।
দুর্যোধনের চতূর পাশা খেলায় সমাজের মানুষ নাকি গণতন্ত্র দূর্নীতির ঘেরা কলে ফেসে গেছে,,
অসহায়ত্বের যন্ত্রনায় মানুষ দুঃশাসনের অশ্লীলতার ধ্রুপদী বস্ত্র পরিধান কেড়ে নিতে চায় মানবিক মুল্যবোধ।
মানুষ অপেক্ষায় কবে সেই শমী বৃক্ষের মন্ত্র পড়া অস্ত্র গুলো নিশ্চিতভাবে আছে নাকি?
হয়তো একবার দ্বারকানাথ একবার মন্ত্র পড়া অস্ত্র গুলো জাদুর কাঠি দিয়ে আবৃত করবে,,
সমাজের সকল স্তরের মানুষদের দুঃখের সহবাস থেকে কাটিয়ে উঠতে সচল ও সুগম করবে,,
ঐদিন হবে মানবতার উপন্যাসের একটি নতুন অধ্যয়নের দিন।
ওরাও চুম্বন পাঠাবে
সন্দীপ সাহু
আকাশের ঠিকানা
সবার খুব চেনা ঠিকানা।
ছোট্টোবেলা থেকে চেনা।
ওই ঠিকানায় কত অভিমান-অশ্রু
মন-ডাকহরকরা পৌঁছে দিয়েছে
কত কত প্রিয়জনের কাছে
কত কত দিন মাস বছর। এখনো।
তাদের স্নেহ-চুম্বনও এসেছে নিয়মিত।
প্রিয় বা প্রিয়ারাও অপেক্ষা করে থাকে।
হলুদ খামে যত্ন করে নাম লিখে চুম্বন ভরে
মন-ডাকহরকরার হাতে দিলেই হলো।
ওরা অপেক্ষায় থাকে আকাশ সমুদ্রের সঙ্গমে।
গোধূলিতে ওরাও চুম্বন পাঠাবে তোমার ঠিকানায়।
(
দু’টাকার গোলাপ
মোঃ মৈনাক চৌধুরী
প্রতি নিয়ত শিখছি.............. বেঁচে থাকার কায়দা,
কখনো জানলাতে চোখ রেখে.............কখনো বা মেঘটা কে দেখে............।
তোমার রূপকে আড়াল করার ক্ষমতা আমার নেই,
কিছুক্ষণের জন্যও তুমি শুধু আমার…..........।
তোমার কথার চার দেওয়ালে বন্দী..........ফোনের প্রেমালাপ চলত............।
মাঝরাতে তোমার টানে আমি মিথ্যুক সেজেছি…..
সব কথা বলা হয়নি…..........।
ওগুলো না বলাই থাক…........পাপড়ি গুলো শুকিয়ে গেছে.............মূল্য হারিয়েছে দু টাকার গোলাপ ।
সম্পাদকীয় সমুদ্ভাসনা ‘
মোহনা’ সসীম-সৃজনী জ্যোতিকেই লালন করে । ‘মোহনা’ মানবিক রস-সন্দীপনার আভরণ-রূপমা ! ‘মোহনা’ মাঙ্গলিক সম্পূর্ণতার সবুজ ! শব্দ-বাক্যান্বয়ে তার প্রেরণা-শ্রীমণ্ডিত পরাগ ! চৈতন্যের আরাধনা তার প্রাণমোহন সৌরভে !
মানববিদ্যায়তনিক পুণ্যাভ সংবৃতি ‘মোহনা’র শোভিত দীপালোকে ! ফাগুনেরই ধ্যান-প্রেষণার অভিযাত্রিক ‘মোহনা’। ‘মোহনা’ প্রতিভাপ্রদীপ্ত পরিব্যাপ্তির বৃত্ত। অনুভব-অন্বেষা আর কল্যাণদর্শন ‘মোহনা’র চিদানন্দ-বিস্তারণে অভিনব-মুগ্ধতায় সঞ্জীবিত।
মোহনা’ জন-আত্মার বিভূষিত ভাব-অবয়ব। ‘মোহনা’ জন-মন-নন্দিত মুগ্ধতার সন্দীপ্ত সম্পদ। নিরুপম স্বস্তি-পারাবত ‘মোহনা’র প্রসন্ন শরণ ।
‘মোহনা’ আর্থ -সামাজিক-রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক সত্য-সঞ্চয়নেই শিল্পশ্রীমান। ‘মোহনা’ বর্তমান ও যুগাতীত মানবমহিমার দীপ্তিকেই ধারণ করে।
'মোহনা’ আবহমান সত্য ও সুন্দরের লীলাময় ব্যাকুলতাকেই ধারণ করে থাক ! জয়শ্রীমান হোক ‘মোহনা’ -- এই-ই অন্তরতর বাসনা !
ওদের অপরাধ
শুভ্রা দেব
বৈচিত্র্যের অধিকারী --
শিখন্ডী, বৃহন্নলারা আজও সমাজে অবহেলিত ,
স্নেহ মমতা বঞ্চিত---
মা বাবার পরিত্যক্ত সন্তান;
পুত্র লাভে পিতার গর্বে বুক ফুলে
উভয়লিঙ্গ জন্মে অন্ধকারে মুখ লুকায়।
লিঙ্গবাদী সমাজ---
মানুষ খোঁজে না ; দিনরাত হাতড়ে খোঁজে বেড়ায় লিঙ্গ!
মানুষের মনে মনুষ্যত্ববোধ; লিঙ্গে কভু নয়,
সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি সব;
নারী, পুরুষ, ক্লীব, হোক্ না সে উভয়লিঙ্গ
দিতে হবে অধিকার ;
বলতে পারো -- ওদের কি অপরাধ?
রক্ত মাংসে গড়া মানুষ ওরা;
আছে বুকভরা ভালোবাসা,
আর সুখ- দুঃখ ঘেরা একরাশ নীরব অভিমান।
ধর্মান্ধ সমাজে বাস আমাদের
ধর্মের নামে চলে শুধু নিপীড়নের লড়াই;
ওরাও মানুষ ; অবুঝ শিশু সে শান্তির দূত,
কেন বইবে দিনরাত অপবাদের বোঝা!
জাগ্রত হোক মানবতা!
লিঙ্গবাদী সমাজের মুখে পড়ুক কালির কালিমা,
নবীন প্রজন্মের হাত ধরে --
দূর হোক সমাজের অন্ধতা।
শতাব্দীর পথে হেঁটে-- জ্বলুক আলোর দিশা
লিঙ্গ ভেদাভেদ ভুলে ; মনুষ্যত্বকে সাথী করে
শিখন্ডী - বৃহন্নলারা খোঁজে পাক সাম্যের অধিকার;
মানুষ রূপে জন্ম ; এটাই হোক তাদের অহংকার।
[
জীবন রহস্য
কাজী নিনারা বেগম
ব্যর্থতার চাদর গায়ে হুমড়ি খেয়ে পড়ে আছি।
তবুও ধৈর্যের ইচ্ছের হাঁসিগুলো বড় রহস্যময়,
নতুন রঙে রঞ্জিত স্বপ্নের দেয়ালে।
ইঁট কাঠ পাথরের পুরানো বাড়িটির পা ছড়ানো আভিজাত্যের অমসৃণ দেয়ালে।
সমাজে বিতাড়িত হয়েও লাথখোর হয়েও চলেছি একা,
অদ্ভুত এক জীবন রহস্যের চলচ্চিত্র সেখানে শুধু মুখোশের আড়ালে পাঠ আদায়ের পালা।
পালা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ!
মৃদঙ্গ
মোহাম্মদ আল্লারাখা
ব্যস্ত হলে আস্ত গিলে খাওয়া যায়
মস্ত একটা গোস্ত গিলে হরদম খায়
সুপ্ত থেকে গুপ্ত ভাবে আকর্ষণে টান
তপ্ত দেহে ব্যপ্ত মোহে সঁপে দেয় জান
মত্ত খেলা রপ্ত বেলা ফুরফুরে কাটে
নৃত্য হতে সৃষ্ট পথে উদগীরণ সাথে
যুক্ত দুয়ে রিক্ত হয়ে নিমজ্জিত চক্রে
রক্ত বয়ে শক্ত হয়ে পৃথিবীর বক্রে।

0 মন্তব্যসমূহ