আত্মজীবনীর অংশ || কানাইলাল জানা

আত্মজীবনীর অংশ 
কানাইলাল জানা 






আত্মজীবনীর অংশ 
কানাইলাল জানা 

১.
বাইসনের মতো কালো কালো উড়ন্ত মেঘ! সেখানে খোঁজ পেয়ে আমাকে গর্ভে ধারণ করেছিল মা। বিদ্যুৎ চমকে মুচকি হেসেছিল শুধু  উন্মত্ত শূণ্যতা। তারপর ট্যাবু ও টোটেমের মতো বাড়তে বাড়তে আমার গাত্রবর্ণ হল সবুজ ...
২.
কলমিলতার মতো লকলক করে বাড়েনি আমার কৈশোর। যদিও ভেড়া চরানোর আয়েসে চরিয়েছি নদী খাল বিল মাঠঘাট। আঁকশি দিয়ে আকাশ থেকে পেড়েছি পাকা ডালিমের মতো টসটসে কথা। খন্ডত মাপের ধনুক কাঁধে ব্যাধ পুত্রের মতো হতে চেয়েছি অরণ্যচারী কিন্তু মা-র আঁচলের খুঁটে আটকে গেছে সব চেষ্টা ...
৩.
যৌবনকে ছুটিয়ে মেরেছে ষড়রিপু।এক আঁজলা জল চেয়ে এক পুঁটলি আগুন আমার হাতে ধরিয়ে দিয়েছে বিভ্রম। দস্যু সেজে ভেতরের ক্ষত স্থির থাকতে দেয়নি  কখনোই।যদিও সে জানে চোখের জলে অথবা মরমী ব্যথায় ভালবাসা সূর্য কিরণের মতোই অম্লান ...
৪.
রাত্রি মস্ত এক আলাপের প্ল্যাটফর্ম  কিন্তু আমার সময় চলে যায় পাখিপড়া মণ্ত্রকে সজাগ রাখতে। বাকল ভেবে গা থেকে ছাড়াতে চাই ব্যর্থতা, ফোঁস করে ওঠে অন্ধকারের গর্জন ...
৫.
স্বর্গকে ভাবি মৌচাক। মধু সংগ্রহের জন্য এতো ভিড়! ভিড় এড়াতে আমি বরং বহু কষ্টে পৌঁছে যাই কিমাশ্চর্য নরক! যেখানে ভবিতব্য ঠেস দিয়ে বসে আছে শিরিষ গাছের মগডালে ...
৬.
কস্তুরীর সন্ধান পাওয়া হল না এ জীবনে। পরলোকে পাওয়া যায় সব স্বপ্ন নাকি চুরমার হলে। তাই সব সত্যি ও অধরা কুচি কুচি করছি। ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দিলে তো হাতে আর থাকবে না কিছুই...

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ