কথাপৃষ্টা
রামকুমার মুখোপাধ্যায়
আজ মাতৃদিবস। প্রায় একশো সতেরো বছর ধরে বিশ্বের নানা দেশে এই দিনটি পালন করা হচ্ছে। আমাদের দেশে পরে এটি চালু হয়। তবে মাতৃচেতনা আমাদের দেশে আমাদের মতো করে ছিল। ভাগলপুরবাসী পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৬৬-১৯২৩) মাতৃশক্তির কথা তুলেছিলেন বহুকাল আগে। আজকের দিনে তাঁর লেখা দুটি বাক্য স্মরণ করি।
তিনি মেধা, তিনি ছায়া, তিনি শান্তি, তিনি ক্ষান্তি।
তাঁহাকে পূজা না করিলে কাহার পূজা করিব?
ছবি: অর্পণা কৌর
*"সাত কোটি বাঙালিরে হে মুগ্ধ জননী রেখেছ বাঙালি করে মানুষ করনি"*
*~ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর*
মা আমাদের মমতাময়ী।মা
আমাদের মাতৃভাষা।
মা আমাদের মমতাময়ী।
৮ মে মা দিবস।
বিনম্র শ্রদ্ধা বিশ্বের
সকল মমতাময়ী মায়ের জন্য।
কবিতাক্রম
★হুমায়ুন আজাদ
★ মলয় রায়চৌধুরী
★পীযূষ রাউত
★মাসুদা তোফা
★মাসুদ পথিক
★গোপেশ চক্রবর্তী
★গোবিন্দ ধর
কবিতাক্রম
আমাদের মা
হুমায়ুন আজাদ
আমাদের মাকে আমরা বলতাম ‘তুমি’,বাবাকে ‘আপনি’।
আমাদের মা গরিব প্রজার মত দাঁড়াতো বাবার সামনে,
কথা বলতে গিয়ে কখনোই কথা শেষ ক’রে উঠতে পারতো না।
আমাদের মাকে বাবার সামনে এমন তুচ্ছ দেখাতো যে মাকে আপনি বলার কথা আমাদের কোনোদিন মনেই হয়নি।
আমাদের মা আমাদের থেকে বড় ছিলো, কিন্তু ছিলো আমাদের সমান।
আমাদের মা ছিলো আমাদের শ্রেনীর,আমাদের বর্ণের, আমাদের গোত্রের।
বাবা ছিলেন অনেকটা ‘আল্লার’ মতো, তার জ্যোতি দেখলে আমরা সেজদা দিতাম বাবা ছিলেন অনেকটা সিংহের মতো, তার গর্জনে আমরা কাঁপতে থাকতাম
বাবা ছিলেন অনেকটা আড়িয়াল বিলের প্রচন্ড চিলের মতো, তার ছায়া দেখলেই
মুরগির বাচ্চার মতো আমরা মায়ের ডানার নিচে লুকিয়ে পড়তাম।
ছায়া সরে গেলে আবার বের হয়ে আকাশ দেখতাম।
আমাদের মা ছিলো অশ্রুবিন্দু-দিনরাত টলমল করতো
আমাদের মা ছিলো বনফুলের পাপড়ি;-সারাদিন ঝরে ঝরে পড়তো,
আমাদের মা ছিলো ধানখেত-সোনা হয়ে দিকে দিকে বিছিয়ে থাকতো।
আমাদের মা ছিলো দুধভাত তিন বেলা আমাদের পাতে ঘন হয়ে থাকতো।
আমাদের মা ছিলো ছোট্টপুকুর-আমরা তাতে দিনরাত সাঁতার কাটতাম।
আমাদের মার কোনো ব্যক্তিগত জীবন ছিলো কিনা আমরা জানি না।
আমাদের মাকে আমি কখনো বাবার বাহুতে দেখি নি।
আমি জানি না মাকে জড়িয়ে ধরে বাবা কখনো চুমু খেয়েছেন কি না
চুমু খেলে মার ঠোঁট ওরকম শুকনো থাকতো না।
আমরা ছোট ছিলাম, কিন্তু বছর বছর আমরা বড় হতে থাকি,
আমাদের মা বড় ছিলো, কিন্তু বছর বছর মা ছোটো হতে থাকে।
ষষ্ঠ শ্রেনীতে পড়ার সময়ও আমি ভয় পেয়ে মাকে জড়িয়ে ধরতাম।
সপ্তম শ্রেনীতে ওঠার পর ভয় পেয়ে মা একদিন আমাকে জড়িয়ে ধরে।
আমাদের মা দিন দিন ছোটো হতে থাকে
আমাদের মা দিন দিন ভয় পেতে থাকে।
আমাদের মা আর বনফুলের পাপড়ি নয়, সারাদিন ঝরে ঝরে পড়েনা
আমাদের মা আর ধানখেত নয়, সোনা হয়ে বিছিয়ে থাকে না
আমাদের মা আর দুধভাত নয়, আমরা আর দুধভাত পছন্দ করিনা
আমাদের মা আর ছোট্ট পুকুর নয়, পুকুরে সাঁতার কাটতে আমরা কবে ভুলে গেছি।
কিন্তু আমাদের মা আজো অশ্রুবিন্দু, গ্রাম
থেকে নগর পর্যন্ত আমাদের মা আজো টলমল করে।
মায়ের ভালোবাসা
মলয় রায়চৌধুরী
যতো বুড়ো হচ্ছি ততো বেশি মনে পড়ছে মায়ের মুখ
বিভিন্ন বয়সের মুখ একই সঙ্গে
ক্যাথলিক স্কুলে যাচ্ছি -- মা তো টা-টা করতে জানতেন না
দরোজার কপাট একটু-একটু করে বন্ধ করছেন
ইমলিতলার ঝোপড়ি থেকে তাড়ি খেয়ে ফিরেছি
কিছুক্ষণ পর মা নাকে আঙুল চাপা দিয়ে ইশারা করেছেন
ওপরে ঘরে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়তে নয়তো বাবা এসে জানতে পারবেন
মায়ের মুখে ভীতি যা আসলে আমার
ব্রা্হ্ম স্কুল থেকে ভিজে জামা সপসপে জুতোয় ফিরেছি
মা আগে থেকেই তৈরি ছিলেন গামছা আর হাফপ্যান্ট নিয়ে
অ্যালুমিনিয়ামের বাটিতে চিনেবাদাম দেয়া আটার হালুয়া নিয়ে
বাটিটা মায়ের হাসির মতন তোবড়ানো
কুড়ি জনের সংসার সামলাতে হয় মাকে -- উনি দেখান আমি কুড়ি নম্বরে
মৃদু হাসি দেখে টের পাই আমিই এক নম্বরে
বয়সের সঙ্গে তাল দিয়ে আমার আর মায়ের মুখ একইভাবে চুপসে গিয়েছে
চোখ বুজে মায়ের হাজার খানেক মুখ মনে করতে পারি এখন
গ্রেপ্তার হবার সময়ে মায়ের আতঙ্কিত মুখ বেশি করে মনে পড়ে
অবাঙালি পত্রপত্রিকায় আমার ফোটো দেখে আবার মায়ের হাসি ফিরে আসে
মা বেশ গর্বোদ্ধত নারী ছিলেন বুঝতে পারি চোখ বুজে
যাবার সময়ে ওই গর্ববোধ দিয়ে গিয়েছিলেন, সেই মুখও মনে আছে...
মা ' কে
পীযূষ রাউত
মা ,
তোমার প্রায় নব্বুই। আমার প্রায় সত্তর।
এখন
এই বয়সে, ভালো না থাকার দুঃসময়ে
স্মৃতির ঝাঁপি খোলে দেখি তোমার যৌবন ও
মধ্য যৌবনের ক্লান্ত মুখ ও প্রতিদিনের সদা
ব্যস্ত যাপন।
মা,
কেন এরকম হয় বলো তো?
আমার আবেগ
আমার উচ্ছ্বাস
আমার ভালো লাগার শত শত অনুভূতিকে
আজ আমি খুঁজে পাচ্ছিনা কোথাও।
মা,
তুমিই বলো তার জন্য দায়ী করবো কাকে?
আমার বয়সকে? নাকি
ভীষণরকমে বদলে যাওয়া এই পোড়া হৃদয়কে?
মা,
ব্যর্থ অতি ব্যর্থ অসহায় পুত্রকে পারো তো
ক্ষমা করো।
আমাদের মা
মাসুদা তোফা
আমাদের মা হারিয়ে গেছে, মা ছাড়া কি ঈদ হয়
আমাদের মা ছাড়াই, আমরা আজকাল সব করি।
কেমন করে ভুলি তোমার হাজার রকম স্মৃতি
যত্নে ছায়া দাও মা গো ভালবাসা তার অমলিন।
আমাদের মা যে নেই একথাটা বলতে চাই না
মা আছে চারপাশেই, গন্ধ পাই, প্রতিদিন আসে
ধবধবে সাদা শাড়ি পরিহিত এক স্বর্গ দূত।
আসে আমার বিপদে , উপদেশ দিতে নির্ভয়ের
বলে সাহস রাখো মা , এ আঁধার কেটে যাবে তবে,
বিপদ আসে বিপদ যায়, এ কথাটা মনে রেখো।
নিবিড় আনন্দ আসে, আনন্দের অশ্রুতে ভাসাতে
আমি দেখি চারপাশে মা আছে, কে বলে নেই পাশে !
মা আছে, মা আসে, মা আমার আলো হয়ে আসে
মা শুধু জীবন্ত নয় , জীবনের ওপারেও রয়
মা আসে সকাল, সন্ধ্যা , মধ্যরাতে, কাক ডাকা ভোরে
তাঁর এ আসা যাওয়া অবিরাম তোমরা দেখো না
আমার প্রেরণা তুমি মা এমনি করে দেখা দিও
আমি জেগে থাকি, তুমি আসো বলে নিঃশব্দে নীরবে
তোমার শাসন খুব মনে পড়ে সে শাসনে আজ
শিখেছি বিনয়ী, ভদ্র হতে, করতে ভালো কাজ।
মনে পড়ে আমায় নিয়ে ভাবনা ছিলো বারমাস
কখনো বাঁধা হওনি কাজে, হয়েছো অনুপ্রেরণা।
আধুনিক, সচেতন এমন মা এ যুগে দেখি না
তোমার স্মার্ট ব্যক্তিত্ব, বুদ্ধিমত্তা আমাকে ভাবায়
অজপাড়াগাঁয়ে জন্মে এত তীক্ষ্ণ বুদ্ধি ও বিবেক
এত সাহসী, বিদুষী নারী আমার চোখে পড়েনি।
কত যে ঈদ পার্বণ যাচ্ছে চলে বাবা মাকে হারা
সন্তান কভু কি সুখ স্বস্তি পায় তোমাদের ছাড়া?
পরপারে ভালো থেকো এই দোয়া প্রতিটি সন্তানে
তোমরা আছো থাকবে অন্তরের গভীরে নিঃশব্দে।
মা
মাসুদ পথিক
জল হয়ে মা আসে, চোখে, মায়া নিরবধি
আমি তাঁকে ভালোবাসি, রিয়্যলি সে নদী
নিঝুম রাতেরকাব্য ১
(মাতৃদিবসকে উৎসর্গ এই কবিতাটি)
গোপেশ চক্রবর্তী
আমি লিখছি
একেকটি অধ্যায় খুলছি
মা চেয়ে আছেন
বাবা চেয়ে আছেন
আমি বহন করছি এই চেয়ে থাকা
মা বলছেন চুপ থাক অশান্তি চাই না
বাবা ওদের কাজ দেখে হাসছেন
বাবা একা থাকতেন
তাঁকে হাতের পাঁচটি আঙুল পাঁচরকমভাবে কাঁদাতেন
বাবার নীরবতায় ব্যক্তিত্ব ছিল
মা সবাইকে ডেকে খাওয়াতেন
নিজের জন্য না রেখে দিয়ে দিতেন যে যা চাইতো
মালুকাকা ক্ষেত্রমোহন আমাদের একথা বলেন দেখা হলেই,বলতো তোমাদের ঘরের দরজা সবসময় খোলা থাকতো
প্রতিমুহূর্তে ফন্দি করে মানুষ
আমাদের বন্দী রাখতো উঠোনে
আমরাও তুষ্টি চোখে দেখতাম আকাশ
আপন মনে নেচে উঠতাম
বাবা চাইতেন বুক ফুলিয়ে বাঁচা
নতমুখের মানুষ থেকে থাকতেন দূরে
হাজার কষ্ট বুকে নিয়ে মা বলতেন-
'সবকিছু ঠিক আছে'
হাজার প্রশ্নের মুখে বাবা রাতজেগে বই পড়তেন
আমরা ছিলাম দাবিহীন নির্বিকার
বেঁচে থাকার আনন্দে হেসে খেলে কেটেছে রাতদিন
মা সমগ্রের কবিতা
উৎসর্গ:
কবি ও কথাসাহিত্যিক
পদ্মশ্রী মজুমদার
কবি ও গল্পকার
কমলিকা মজুমদার
গোবিন্দ ধর
আমি মায়ের সাথে এক দুটি ছবিতে থাকলেও তেমন ভালো রকম একটিতেও নেই।
এই ছবিতেও আমি নয়।
ছবিটি ৫০ বছর আগে ধর্মনগর তুলেছিলেন বাবা কোন স্টুডিতে।
ছবিতে বড়দা নিত্যানন্দ ও দিদি জ্যোৎস্না।
আমার সৌভাগ্য ছবিটি আমার কাছে আছে।
আমাকে নিয়ে সৌভিক পন্ডিত সম্পাদিত"ক্রিয়েটিভ "
( নিষ্ঠ আলোকপাত)লিটল ম্যাগাজিনে আছে।মায়ের মৃত্যু ৪ঠা মে।১৯৯৬সাল।
মায়ের সাথে অনেক স্মৃতি কোন এক সময়
ধারা বাহিক কবিতা লিখবো।
'মাকে লেখা কবিতা সিরিজ'।
এলোমেলো অনেকগুলো লেখা আছে।
এই কদিন আগেও একটি লেখি কবিতা।
কবিতাটি এমন
হলো কিনা জানি না।
নিচে পড়ুন:
এক.
আঠারো বছর ধরে মা বিছানায় শায়িত
মাঝে মাঝে উঠতেন
বাইরে একটু পায়চারী করা
বারান্দায় হাঁটতে হাঁটতে তিনি ক্লান্ত হয়ে যেতেন।
মা আমাদের কোনদিন রান্না করে খাওয়াননি।
বাবা অফিশ যাওয়ার আগে
সকালে এক সাথে পাত পাড়তেন।
সকলের খাওয়া হলে তিনি অফিশ যেতেন।
সকালের রান্না থাকতো
দুপুরে স্কুল থেকে এসে আমরা খেতাম।
বাবা রাতে বাসায় এসে ক্লান্তি ঝেড়ে
রাতের খাওয়ার হাঁড়ি চাপাতেন।
লেখাপড়া শেষে আবার একসাথে আমরা ভাইবোন মিলে
একসাথে খেতাম।
বাবা তারপর খাওয়ার শেষে
গরমকালে বাইরে বেন্চে বসতেন।
ক্লান্তিহীন। গল্প।স্বপ্ন।বিলাতেন।
মা সর্বদা মনোযোগসহ গল্প শুনতেন।স্বপ্নগুলো বুনতেন।
বাবার ছায়াসাথী মা।
মা সেরকম কোন কাজই করার সামর্থ্যে নেই।
দীর্ঘ রোগ ভোগ। দীর্ঘকাল বিছানায় তিনি।
হাপরের মতো শ্বাস নিতেন।তবুও মাকে কোনদিন রোগমুক্ত পাইনি।
বিছানায় থেকে থেকে মা
সারাবছর বই পড়তেন।
যা সামনে আসতো তাই পড়তেন।
বই পড়তে পড়তে মায়ের মুখমন্ডল অবিকল
বইয়ের মতো দেখাতো।
মায়ের ছিলো না কোন গোড়ামি।
কারো কাছে কোন নালিশ জানাতে দেখিনি মাকে।
অসুখ মাকে শয্যাগত করলো।
শ্বাস নিতে কত কষ্ট
কোনদিন মা তার কষ্ট পাঁচকান করেননি।
এত কষ্ট
এত অসুখ
এত অসুবিধে
আমরা তবু তিন ভাই পাঁচ বোনের সংসারে বড় হলাম।
মা এই একটি মাত্র শব্দঋণে আজীবন স্মৃতিপট লেখা আমার ললাট।
০৮:০৫:২০১৮
বেলা:০৩:১০মি
কুমারঘাট।
---
দুই.
মা আমার চির অসুখে ভোগতে ভোগতে জীবনের দিনগুলো কাটালেন।
অথচ বাবা কোনদিন মুখ ভার করে তাকে বকাটকা দিতে দেখিনি।
মাকে নিয়ে আত্মক্ষরের বিভিন্ন পর্বেও আমার লেখা আছে।আমি মায়ের কথা মনে রাখি সারাক্ষণ। তার জন্য কোন বিশেষ দিন আমার দরকার নাই।
সারাদিন সারাক্ষণ মা আমার জীবনের সাথে লেপ্টে আছেন।থাকেন।বলে দেন কি ভুল কি করা লাগবে।আর কি করতে হবে।
এই করেই অনুপস্থিত মা আমার বড় অভিভাবক।
১৩:০৫:২০১৮
রাত:০৭:৪৫মি
কুমারঘাট।
---
তিন.
(নিশ্চয়ই
মা পর্ব,প্রেম পর্ব এই
পর্যায় ভিত্তিক কবিতা পড়ে ভালো লাগলো।)
কমলিকা জানো, মা-কে নিয়ে লেখাগুলো
আমায় মোচড় দিয়েছে।
আমি মাকে হারিয়েও এখনো পারিনি
মায়ের উপযুক্ত কবিতা লিখতে।
বাবাকে নিয়ে লেখা হয়ে যায়
মা-কে লিখতে চাইলেই।
মা আমাকে ধরা দেননা।
বাবা আমার সকল সত্তাকে গিলে খেয়েছেন।
আমি মায়ের নামে লিখবো।
বিশ্বাস করো কমলিকা মা-কে নিয়ে
একটিও কবিতা লেখা হয়নি।
মা-কে কবিতায় লেখা যায় না।
মা সমগ্রের কবিতা --->একজন মা=মা সমগ্র:সমগ্র মা।
না,কমলিকা মা-কে আমি কবিতায় আঁকতে পারিনি।
০৪:০৫:২০২০
সকাল:০৬:৪০মি
কুমারঘাট
---
চার.
মাকে নিয়ে কবিতা লিখতে পারি
এখনো লিখিনি:মা সমগ্র লিখবো বলে।
আমাদের এগারো ভাইবোনের
জীবিত আটজনের আমিও একজন অংশ
মা সমগ্রের একজন।
আমার জন্মের আগে মা
আরো ছয় বার মা ডাক শুনেছেন।
আমার পরেও মা আরো চারবার মা।
আমার আগে ও পরে এতবার মা মা হয়েছেন
আমিও মায়ের কাছে একজন মা ডাকের অংশিদার।
আমার মা সমগ্রের আমিও একজন।
২৮:০৮:২০১৮
রাত:১০:১০মি
কুমারঘাট।
---
পাঁচ.
মায়ের ছবি আমার কাছে এমন:
চশমা পরা
সামনে কোন গল্প কিংবা উপন্যাস
তিনি নীরব পাঠ করছেন।
সারাদিন বই পাঠ মায়ের অভ্যাস।
এখনো কোন বই কিনলে
মাকেই পড়তে দেবো মনে করি।
আমার সকল বই মা পাঠ করেন।
৩১:০৮:২০১৮
সকাল:০৮টা
কুমারঘাট।
-----
ছয় .
আমাদের বাসায় নারী পুরুষ এমন কোন শ্রেণি বিন্যাস নেই।
আমার মা নারী হলেও প্রকৃতপক্ষে একজন মানুষ
বাড়ির সকল পুরুষের কাছেই মা মানুষ।
তিনি মেয়ে মানুষ নয় মানুষ।
০১:০৯:২০১৮
সকাল:০৪টা
কুমারঘাট।
---
সাত.
তিরিশ বছর বাবা নেই
মা নেই ২৪ বছর।
এখনো বাবার শেষ কথা প্রতি নিয়ত
আমার কানে এসে লাগে:"সুভাষ দেখে রাখিস
আমার সন্তানদের"।
সুভাষ আমার কাকা আমরা বাবু ডাকতাম।
তিনি বাবার মৃত্যুর পর কোনদিন দেখে রাখেননি।
মাকে বলেছিলাম:"বিদায়"
সাথে সাথে মা কথা রেখেছেন।
এসব জীবনের গল্প ভুলে বাঁচা যায়?
বাঁচা যায় মা?
১৪:১০:২০১৯
রাত:০৮ঃ৪৮মি
কুমারঘাট।
---
পুনশ্চঃ মা
৪ঠা মে ১৯৯৬ সাল।
সারা রাত মা কষ্ট পাচ্ছিলেন।
ভোরে হঠাৎ মুখ ফসকে বলে ফেলি:বিদায়।
তখন বুঝিনি একবার বিদায় উচ্চারণে
সত্যি সত্যি মা চলে যাবেন।
এত অভিমান মা
এত অভিমান তোমার।
০৪:০৫:২০২০
ভোর:০৭টা
কুমারঘাট।
আট.
পদ্মশ্রী, তুমি কেমন জীবিত মাকে নিয়েই খসখস
লিখে ফেলো মা বিষয়ক কবিতা।
মাক্সবাদ থেকে মাকসবাদ সবই লেখা
মা সিরিজ কবিতায়।
আমি কেমন অকবি দেখো
চব্বিশ বছর থেকে মা-কে আঁকতে চাই
কোন ভাবেই মা এসে কবিতায় বসেন না।
মা-কে কবিতায় আঁকতে পারিনি।
মা আমার অক্ষরসাধনায় মূর্ত হয়ে আসেন না।
আমার মা আসলে অক্ষরে বন্দী হতে রাজী নয়।
আমার মা বুকের গভীরে কলকল স্রোতস্বিনী।
তিনি সারা জীবন সংসারে পাঠকমাত্র।
তিনি মধ্যবিত্তের রিপুকরা কাঁথাশিল্পী।
০৪:০৫:২০২০
বিকেল:০৫টা
কুমারঘাট।
কৃতজ্ঞতা :Ramkumar Mukhopadhyay
0 মন্তব্যসমূহ