শিশু সাহিত্যের সমস্যা ও সম্ভবনা
অমলকান্তি চন্দ
রমেন্দ্র সুন্দর ত্রিবেদী “শিশু সাহিত্য “কথাটি প্রথম ব্যাবহার করেছিলেন, আজ থেকে প্রায় একশ বছর পূর্বে যোগীন্দ্রনাথ সরকার সংকলিত “খুকুমণির ছড়া “(১৩০৬)বইয়ের ভূমিকা লিখতে গিয়ে। উনার মতে শিশু সাহিত্য বলতে -মুখে মুখে প্রচলিত লোকায়ত সাহিত্য (oral literature) বিষয়বস্তু শিশু, অর্থাৎ ছেলে ভুলানো ছড়া, যার মধ্যে রবীন্দ্রনাথ কথিত “বাল্যরস “অন্যতম।
শিশু সাহিত্যের বিষয় এবং ভাষা নিয়ে লেখককে ভাবতে হবে। শিশু সাহিত্য যিনি রচনা করেন তিনি যেহেতু শিশু নন, বয়স এবং অভিজ্ঞাতায় বড়ো, উনাকে ফিরে যেতে হবে উনার শিশু -কিশোর বেলায়, তবেই শিশুরা পেয়ে যাবে একজন প্রকৃত বন্ধু। শিশু সাহিত্য রচনাকালে শিশুদের মনোজগতে বিচরণ করার জন্য শব্দ ও কল্পনার জাদু কাটি নিশ্চয়ই থাকতে হবে।
বিশ্ব শিশু সাহিত্যের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, শিশুরা নিজেদের নায়ক ভাবতে বেশ পছন্দ করে। তাদের অপছন্দের বিষয় হল উপদেশ। শিশুরা নিজেদের মনের মাঝে এক অদ্ভুত কল্পলোকের জন্ম দেয় এবং পক্ষীরাজের পিটে চড়ে ছুটতে থাকে তেপান্তরের মাঠে। শিশুসাহত্যিকেরা শিশুদের উপযোগী ভাষা শৈলীর মাধ্যমে তখনই কল্পলোকের দরজা খুলে দিতে পারবে।
শিশুসাহিত্যিকদের মনে রাখতে হবে কোন বয়সের ছেলে - মেয়েদের জন্য কি বিষয়ে লিখবে। শিশুসাহিত্যর বিশ্ব ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায় যে, সোভিয়েত ইউনিয়ন ও পূর্ব ইউরোপের সমাজতন্ত্রী দেশগুলোর শিশু সাহিত্যে স্পষ্ট বয়সসীমার উল্লেখ থাকে। সেই দেশগুলোতে এই প্রয়াস সেই কারণেই সফল হয়, বয়স ভেদে বোধ শক্তির বিস্তর ফারাকের কথা মাথায় রেখেই শিশুসাহিত্যিকরা সাহিত্যরসের সম্ভার নিয়ে আসতে পারেন শিশুদের জন্য। তখন গুরুজনেরাও বুঝতে পারেন কোন বয়সের বই তিনি সন্তানকে পড়তে দেবেন।
আজকের সমাজ ব্যবস্হায় শিশুদের নিয়ে এত কথা, ছড়া, গান, উপকথা, তবুও শিশুদের প্রতি অবহেলা, নিষ্ঠুরতা লক্ষ্য করা যায়। আমরা যে বয়সে শিশুদের হাতে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের বর্ণ পরিচয় কিংবা রবীন্দ্রনাথের শিশু পাঠ্য গ্রন্থ সম্ভার তুলে দেওয়ার কথা, তাদের প্রতি প্রতিনিয়ত অত্যাচার সত্যই বেদনাদায়ক। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে গাড়ির হেলপার আট -দশ বছরের ছেলেদের সবসময়ই দেখা যায়। শিশুপাচার চক্রের মাধ্যমে শিশুরা পাচার হচ্ছে দেশ-বিদেশে। দেবতুল্য শিশুরা আজ নির্যাতনের শিকার আমাদের সমাজ ব্যবস্থায়। যা সামনে ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করতে চলেছে।
ত্রিপুরার শিশু সাহিত্যের আঙ্গিনায় পা রাখলে দেখা যায় অবিভক্ত ত্রিপুরা এবং আজকের ত্রিপুরায় অনেক শিশু সাহিত্যিক শিশুদের মনোজগতে বিচরণ করছেন। বিভিন্ন রসাত্মক কাহিনী এমনকি লোক মুখে প্রচলিত কাহিনী গুলো গল্পের আকারে কিংবা ছড়া কমিকসের মাধ্যমে পরিবেশিত হয়ে আসছিল। ত্রিপুরার শিশু সাহিত্যের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে সত্তরের দশক থেকে শিশুদের সঙ্গে বড়োদের ছেলে খেলা বেশ জমে উঠেছিল। চুনী দাশ, বিমলেন্দ্র চক্রবর্তী, অপরাজিতা রায়, অনিল সরকার, অনিল কুমার নাথ থেকে শুরু করে অপাংশু দেবনাথ, পদ্মশ্রী মজুমদার, জোর্তিময় দাস সহ আরো অনেক শিশু সাহিত্যিক ত্রিপুরার শিশু সাহিত্যকে এক উচ্চতার শিখরে পৌঁছে দিয়েছেন।
ছোটদের মনোজগতের কথা মাথায় রেখে ছন্দোবদ্ধ রচনার পাশাপাশি বিভিন্ন স্বাদের ও রসের অজস্র রচনা পরিবেশন করা চাই। শিশুরা আমাদের সমাজে দেবতুল্য। তাদের বিকাশের স্বার্থে বড়োদের আরো গুরু দায়িত্বভার বহন করতে হবে। একটি শিশু প্রথমে তার পরিবার থেকে শিক্ষা নেবে। তারপর স্কুলের শিক্ষক মহাশয়ের শেখানো নীতিমালার সহিত পরিচয় ঘটবে বর্ণমালার দোলনায় চড়ে এবং তা তখনই সম্ভব হবে পাঠ্যসূচীতে শিশুদের বয়স উপযোগী লেখা মুদ্রণের মাধ্যমে।
শিশু পাঠ্য বইগুলোকে শিশুদের মনোগ্রাহী করে লিশুদের কাছে পৌঁছে দিতে প্রকাশক থেকে শুরু করে ছবিকার, শিক্ষক, গুরুজনদের বিশেষ ভূমিকা পালন করতে হবে। তেপান্তরের প্রকাণ্ড ধু ধু মাঠ, এপার ওপার দেখা যায় না, রাজ পুত্রের ঘোড়া ছুটছে, মেঘের পাহাড়ে কালো কালো দৈত্যরা দাঁড়িয়ে আছে, চারিদিকে কেমন আলো আঁধারি, শিশু শ্রোতাকে স্বপ্নের জগতে নিয়ে যেতে যেতে গুরুজনেরাও সাঁতার কাটতে থাকেন স্বপ্নের সায়রে। একে একে ফিরে আসা নিজেদের বাল্য, কৈশোর, যৌবন ফুলঘুটিতে নাচতে থাকে অবিরত। মনোজগতের এই সব কাহিনী রবীন্দ্রনাথ, পুশকিন, তুর্গিয়েনেফ, এবং কিশোর তলস্তোয় ছোটবেলায় শুনেছিলেন তাঁদের বুড়ি দাই -মার কাছ থেকে।
ত্রিপুরার শিশুসাহিত্যে এক উজ্বল নাম চুনী দাশ।
তাঁর প্রকাশিত ছড়া গ্রন্থ গুলো হল -টুকির ছড়া, কুট্টি পিসির ছড়া, পাপাইয়ের ছড়া, ছোটদের ছড়া আবৃত্তির ছড়া ও কবিতা, ছেলে ভুলানো ছড়া এবং হুকুমচাঁদের পরম কথা (গল্প) উল্লেখযোগ্য। প্রকৃতির বর্ণানায় ছড়াকার লিখেছেন ঃ
“ রাত হলে বনে বনে /জ্বলে চাঁদ, তারা/ জোনাকিও দেয় চুপি /বনানী পাহারা। “/
ত্রিপুরা ও উত্তর পূর্বাঞ্চলের একমাত্র প্রতিবাদী ছড়াকার কবি অনিল সরকার। তাঁর উল্লেখযোগ্য ছড়ার বই -কাল বদলের ছডা, বন থেকে এল টিয়ে, টক ভীষণ টক, রেলের চাকা ঝম ঝম (যৌথ ছড়া গ্রন্হ)।
সামাজিক অবক্ষয়ের যুগে পুলিশের উদ্দেশ্য তিনি ছড়ায় লিখেছেন ঃ
পুলিশ তুমি/দেশের ছেলে/ দেশতো তোমার মা,/ মায়ের শরীর /চাটে শেয়াল /তুমি জাগবে না? /
ত্রিপুরার শিশুসাহিত্যে বিমলেন্দ্র চক্রবর্তী সকলের প্রিয় ছড়াকার। তিনি শিশু পত্রিকা ঝিনুকের সম্পাদক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্হের সংখ্যা প্রায় চল্লিশ। উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ গুলো হল ঃ
রাবণ রাজা, কাকতাড়ুয়া, কানামাছি, ঘুম ভাঙ্গা নদী, নাও ভাসালাম জলে, রেলের চাকা ঝম ঝম (যৌথ ছড়া সংকলন)।
তিনি শিশু -কিশোরদের জন্য নানান স্বাদের গল্প রচনা করেছেন। নদী, গাছ, পাখী, এবং নীল আকাশের সাথে তিনি প্রতিনিয়ত ভালবাসার কথা বলেনঃ
দরজাটাকে খুলে দাও/ নদীটাকে ডাকো / চটপট গাছে গাছে /পাখীগুলো আঁকো।/ফুরফুর হাওয়া সব /ঘরে তুলে রাখো /নীল আকাশ বুকে নিয়ে /সুখে তুমি থাকো।/
শিশুদের নাট্য সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য পরিচিত নাম। তিনি শতাধিক নাটক রচনা করেন। কবি নন্দকুমার দেববর্মার ছোটদের মহাভারত বাংলা থেকে ককবরকে অনুবাদ করেন। কবি নকুল রায়ের” সাঁকো পেরিয়ে দেব শিশুরা “ত্রিপুরার শিশু সাহিত্যে উল্লেখযোগ্য সংযোজন। শ্যামলাল দের্ব্বমার উল্লেখযোগ্য ছড়া সংকলন হলঃ “চিংচিং চিং চিং মাচিং চং “,কাতাং বিতাং “।কবি সন্তোষ রায়ের গল্প গ্রন্হ “লঙ্কা কাণ্ড “শিশু-কিশোরদের মনের খোরাক। কিশোর রঞ্জন দে ছোটদের নিয়ে অনেক গল্প লিখেছেন। ত্রিপুরাকে নিয়ে তাঁর চারটি লাইনঃ
ত্রিপুরারে ত্রিপুরা /পেটের মধ্যে কী পুরা/পাহাড়ী না বাঙ্গালী /আসলে তো কাঙ্গাল-ই। /
অপরাজিতা রায় রাজ্যের একজন বিশিষ্ট ছড়া শিল্পী।
চড়িলাম ক্রিয়াপদ?/ কে বলেছে, কি আপদ!/ চড়িলামে যাওয়া যায়, / টি এ বিল পাওয়া যায়,/ ত্রিপুরায় চড়িলাম /ক্রিয়া নয়, শুধু নাম। /
এই ছড়াটি উনার নির্বাচিত ছড়া সংকলন থেকে নেওয়া।
অগ্নিকুমার আচার্যের শিশু নাটকের বই শিশু রাজার দেশ, ছড়ার বই ত্রিপুরার ছবি ও ছড়া।
অমর সাগর অমরপুরে/আগরতলা নয়কো দূরে ,/ইলিশ পাবে গোলবাজারে/ঈদের দিনে নামাজ পড়ে। /
কবি নিধু হাজরার ছড়ার শতকিয়া এক উল্লেখযোগ্য ছড়া সংকলন। পান্নালাল রায় শিশুদের জন্য রচনা করেন -রবীন্দ্রনাথের ত্রিপুরা। ছোটদের গল্প রচনায় মীনাক্ষী সেনের নাম উল্লেখযোগ্য। কবি সুধীর সরকার রম্যরচনায় ছোটদের জন্য লিখেছেন হাসির গল্প -”ভূতের বাবার শ্রাদ্ধ “।নারায়ণ দেব শিশু -কিশোরদের জন্য নানান স্বাদের নাটক ও গল্প রচনা করেছেন। তাঁর লেখা বুবুন ছুবুনের গল্প উল্লেখযোগ্য। রাখাল মজুমদারের “সুয্যিমামা “এক বিখ্যাত ছড়া সংকলন ।ত্রিপুরার শিশু- কিশোর সাহিত্যে বাঁধন চক্রবর্তীর গল্প সংকলন “ডাকাত যখন আসে “ছোট বড় সকলের মন জয় করে নেয় ।
বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত কবি অনিলকুমার নাথ। কৌতুকাশ্রী(লিমেরিক) ছড়া রচনায় শিশু- কিশোরদের মনে স্হান করে নিয়েছেন। তাঁর লিমেরিকে দারুণ হাসির খোরাক মেলেঃ
দ্যাখো আজকাল কী সব খবর মিলছে/ব্যাঙ গপাগপ সাপকে ধরে গিলছে /চার মুষিকের ঘরে আসি/ বেড়াল হল কাজের মাসি।/ মাজতে গিয়ে থালা ভেঙ্গে খায় ইঁদুরের কিলসে/লুকিয়ে তাই নিচ্ছে খেয়ে মাথা ব্যাথারই পিল সে।/
ত্রিপুরার শিশু সাহিত্যে আশোক দের্ব্বমা খুব পরিচিত নাম। তাঁর উল্লেখযোগ্য ছড়া সংকলনগুলো হলঃ ধিতাং ধিতাং ছড়ার বিতান, সুখের সওদাগর, রূপসী ত্রিপুরা।
খুঁজছি আমি সেই ছড়াটা/ হারিয়ে গেছে কবে,/কবি দাদু বলল আমার /অল্প বয়স হবে।/আবার তাকে দেখতে পাব /এই আশাতে রই, /আমায় দেখে বলবে জানি /কাজলা দিদি কই?/
ছড়াকার অমল চক্রবর্তী শিশু-কিশোদের জন্য অনেক লেখা লিখেছেন। শ্যামল ভট্টাচার্যের উল্লেখযোগ্য গল্প গ্রন্থ “আকাশে ওড়ার গল্প “।তাছাড়া শ্যামলকান্তি দেব, অনুপ দেব শিশুসাহিত্যেকে সমৃদ্ধ করছেন। ত্রিপুরার শিশুসাহিত্যে আবদুল হালিম, সুব্রত দেব, ফুল্লরা ধর, পারবিন নাহার, দেবীস্মিতা দেবদের অনাদি চৌধুরী, শচিরাণী চৌধুরী সকলের রচনা প্রশংসার দাবী রাখে।
বর্তমানে যারা শিশু সাহিত্যে শিশুদের মনো জগতে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন, তাঁরা হলেন সুমন ভট্টাচার্য, সুতপা রায় আপাংশু দেবনাথ ,দীপালিকা দাস, অমলকান্তি চন্দ, জোর্তিময় দাস, গোবিন্দ ধর, পদ্মশ্রী মজুমদার, রাজেশ চন্দ্র দেবনাথ, মৈনাক মজুমদার, বিল্লাল হোসেন রতন আচার্য, জোর্তিময় রায় প্রমুখ। কবি ছড়াকার অপাংশু দেবনাথের উল্লেখযোগ্য ছড়া সংকলনঃ ছুটির ঘণ্টা, হাস্নুহানার দেশে, জল ডুব ডুব শাপলা শালুক।তিনি রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে একটি ছড়ায় লিখেছেনঃ “তুমি আমার ঝড়ো হাওয়া, বিজয় নদীর ঢেউ/রবীন্দ্রনাথ আর বলোনা তুমি আমার নও”।/ কিছু দিন আগে ক্ষুদে ছড়াকার গৈরিকা ধরের সম্পাদনায় শিশু পত্র “দোলনার “ আত্মপ্রকাশ ঘটে।
গল্প যখন ছবি হয়ে উঠে,তুলির আঁচড়ে নানান ও ঘটনা প্রবাহে সৃষ্ট চরিত্রগুলো কৌশলগত ভাবে গল্পের ভেতর ছুটতে থাকে। দারুণ রূপকথা কিংবা
চিত্রের মাধ্যমে বর্ণনা করা ১১০খ্রীস্টাব্দে রোমের ট্রাজানের কলাম প্রথম দিকে কমিকসের টিকে থাকার উদাহরণ।গল্প বলার জন্য অনুক্রমিক চিত্র
ও শব্দের মাধ্যমে মধ্যযুগীয় গল্পের ধারাবাহিক দৃশ্য উপস্থাপিত করা হতো। সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনের প্রেক্ষাপটে ১৮৪২ সালে কার্টুন (ব্যাঙ্গচিত্র) পরিচিতি লাভ করে।
কমিকস শিশু সাহিত্যের এক বিশাল অঙ্গন। চিত্রায়িত ছবির প্রেক্ষাপটে এই যে ধরণ,অলক দাসগুপ্ত দারুণ সফলতার সাথে, নব্বইয়ের দশক থেকে কাজটি করে আসছেন।অলক দাসগুপ্ত ৩ রা জানুয়ারি ১৯৬৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন।তাঁর পূর্ণাঙ্গ কমিকসের বই দু'খানা।
তাছাড়াও এখন পর্যন্ত আরো ২১টি কমিকস বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায়,ছোট কাগজে এবং ওয়েবজিনে ছড়িয়ে আছে।
তাঁর উল্লেখযোগ্য কমিকস গুলো হল ১)সেনাপতি রায় কাচাগ,২)" অলৌকিক রাতে" এই নামে কমিকসের বই-এ "একটি তারার কাছে" আরেকটি পূর্ণাঙ্গ কমিকস সংকলিত হয়েছে। ৩) কমিকস ও গ্রাফিক্স প্রতিটি খণ্ড পাঠকের কাছে আজও সমাদৃত।অলক দাসগুপ্ত একজন পেশাদার কমিকস স্ক্রিপ্ট রাইটার । সেনাপতি রায়কাচাগ থেকে শুরু করে প্রতিটি কমিকস ভারত, বাংলাদেশে দারুণ সাড়া ফেলেছে। তা শিশু-কিশোদের মনে স্থান করে নেয়। তাঁর প্রথম কাজ ১৯৯১সালে ডিটেকটিভ থ্রিলার "সবুজ পাহাড়ে দুর্বিপাক" শারদ কিশলয় এবং সৃজন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
শিশুদেরকে তার স্বপ্নের জগতে থাকতে দেওয়া, তার মত করে পথ চলতে দেওয়া, প্রজাপতি আর প্রকৃতির সাথে খেলতে দেওয়া প্রয়োজন। শিশুরা গাইতে থাকুক। রঙ তুলিতে আঁকতে থাকুক তার নিজস্ব ভুবন। স্বপ্নের দেশে ছুটতে ছুটতে ভালোবসতে শিখুক তার বাবা-মাকে, চারিপাশের প্রকৃতি, গাছপালা পশুপাখীদের। প্রত্যেক শিশুর ভেতর একদিন মহীরুহ হতে পারার সম্ভবনা নিশ্চয়ই লুকায়িত আছে।
0 মন্তব্যসমূহ