কী লিখি কেন লিখি নাজমা আক্তার

কী লিখি কেন লিখি 
নাজমা আক্তার 

যখন লিখতে শিখিনি অক্ষর চিনিনি তখন ছবি আঁকতাম বুঝে না বুঝে । যখন লিখতে শিখেছি , সপ্তম শ্রেণীতে থাকাকালীন বঙ্কিম ধরেছি , তখন থেকে ভিতরে লেখার তাগিদ অনুভব করি । বড় হতে শুরু করেছি কেবল, প্রেমের সিনেমা দেখে এক ধরনের আবেগ তৈরি হয় । বিনোদন বলতে সিনেমা। আবেগ থেকে গান, কবিতা লিখতে  চেস্টা করি।
তখন মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয় । 
বাড়িঘর সব ছেড়ে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ত্রিপুরায় প্রবেশ করি । বাবা মুক্তিযুদ্ধে সামিল হয়েছেন ।
দেশ স্বাধীন হয়।

দেশে ফিরি ৪ জানুয়ারী ১৯৭২।
কিন্তু ঘরে ফিরতে পারিনি। ঘর নেই। পুড়ে ছাড়খার।
পয়সা নেই বাড়ি ভাড়া করার ।
আত্মিয়স্বজনের বাড়িতে থাকি , লোকসংখ্যা বেশী হওয়াতে এর ঘর তার ঘরে ভাগ করে থাকি । 
সরকার সামান্য টাকা বরাদ্ধ করেন মুক্তিযোদ্ধাদের । সঙ্গে রিলিফের চাল।
নিজেদের ঘর হয় সে টাকাতে।
খুব বেশী আরামে থাকার মত নয় ।
সবাই এক বিছানায় গাদাগাদি করে ঘুমালেও
আমার বিছানা , পড়ার টেবিল আলাদা ব্যবস্থা করা হয় । কারন বাড়িতে আমার বাবার কাছে আমার একটা আলাদা মূল্য ছিল ।
যৌথ পরিবারে তখন আমরা দশ ভাইবোন। সব মিলে কুড়িজন।
যা বলছিলাম । সিনেমা দেখে আবেগের কথা , কবিতা, গান লেখা শুরু করি ।
পছন্দ হয়না , চিবিয়ে চিবিয়ে টেবিলের নিচে ফেলে দেই ।
ঘর ঝারু দিয়ে কাজের মেয়ে এত্ত এত্ত কাগজের গোল্লা ফেলে । 
আর মাকে গিয়ে বলে "ছোট আপা খালি কাগজ খায়"।
তখন কাগজ খেয়েই চলেছি ।লেখা মনপুত হয়না।আমি লেখক হয়ে উঠতে পারছিনা
তখন ছবি আকা আর লেখালেখি চলছে।

৭৬ এর শেষ দিকে পত্রের উত্তর লিখতে শুরু করি , কাগজের গোল্লা হয়না , চিবিয়ে খাইনা । সোজা পোস্ট অফিস হয়ে G/5 , এফ রহমান হল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মীজানুর রহ মানের কাছে পৌঁছে যায় ।
মীজান বলে , কি লিখ এগুলি , সারাদিনের ঘটনা । বিড়ালের  বাচ্ছা হবার খবর , কে পিছলে পড়ে পা ভেঙ্গেছে তার  কথা থাকে আমার লেখা পত্রে।
ধিরে ধিরে পত্রে স্থান পেতে শুরু করে ভালোবাসার কথা।
যাকে বলে প্রেম পত্র।
প্রেম পত্র লিখেতো আর লেখক হওয়া যায়না । গল্প ,কবিতা লিখে জমাতে থাকি ।প্রকাশ  করতে পারিনা।
লেখক হবার বাসনা শিকেয় তুলে রাখি।
চেস্টা করি আর্টিস্ট হবার শখ মেটানোর।
চারুকলায় চান্স পেয়ে যাই । একটা শখ পূরণ হলেও লেখক হবার বাসনা  বিসর্জন দেইনি। 
কবিতা , গল্প হয়তো একদিন বই আকারে ছাপা হবে সে আশা  আছে।
২০০১ সালে আমার প্রথম লেখা ছাপা হয় জন কন্ঠে । কবিতা গল্প নয় ।
শিল্প সমালোচনা । সম্মানি পেয়েছিলাম ৮০০ টাকা।তারপর সপ্তাহে চারটা করে লেখা আগ্রহের সাথে ( জন কন্ঠ ছাড়া ও ইত্তেফাক , সংবাদ , কালি ওকলম সহ অন্যান্য পত্রিকা)   সাহিত্যসম্পাদক ছাপ্ তে থাকেন । 
দেরী করে হলেও আমি লেখক হয়ে ঊঠতে পেরেছি শুধু বদলে গেছে লেখার বিষয়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ