লীলা নাগ // ভি ভি নিউটন


লীলা নাগ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রী। একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী,একজন বাঙালি সাংবাদিক, জনহিতৈষী।নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর সহকারী ছিলেন।ঢাকার আরমানীটোলা বালিকা বিদ্যালয়, কামরুন্নেসা গার্লস হাই স্কুল, শেরে বাংলা বালিকা মহাবিদ্যালয়ের  প্রতিষ্ঠাতা। বিবাহের পরে নাম হয় লীলা রায়।

 
১৯০২ সালের ২ অক্টোবর  আসাম প্রদেশের  গোয়ালীপাড়ায় লীলা নাগ জন্মগ্রহণ করেন। পৈতৃক নিবাস মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর থানার পাঁচগাও গ্রামে।  পিতা গিরীশচন্দ্র নাগ ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। বৃটিশ আমলে লীলা নাগের পরিবার সিলেটের অন্যতম সংস্কৃতিকমনা ও শিক্ষিত পরিবার ছিল।

 ১৯২১ সালে  কলকাতার বেথুন কলেজ থেকে লীলা নাগ বিএ পাশ করেন। পরীক্ষায় তিনি মেয়েদের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেন এবং পদ্মাবতী স্বর্ণ পদক লাভ করেন।

 ১৯২১ সালে  ঢাকা বিশ্ববিদ্যাল়য়ে ইংরেজি বিষয়ে এমএ ভর্তি হন। 

১৯২৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজীতে  দ্বিতীয় বিভাগে এমএ ডিগ্রী লাভ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম এমএ ডিগ্রীধারী।  তখনকার পরিবেশে সহশিক্ষার কোনও ব্যবস্থা ছিল না বলে লীলা রায়ের মেধা ও আকাঙ্ক্ষা বিচার করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ভাইস চান্সেলর ডঃ হার্টস তাকে পড়ার বিশেষ অনুমতি প্রদান করেন।

১৯৩৯ সালের ১৩ মে ঢাকার বিপ্লবী সংগঠন  শ্রী সংঘের প্রতিষ্ঠাতা অনিল রায়ের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।বিয়ের তার নাম হয়  লীলাবতী রায়।

১৯৪৬ সালে ভারত ভাগের সময় সাম্প্রদায়িক দাঙার সময়  নোয়াখালীতে মহাত্ম গান্ধীজীর সাথে দেখা করেন।

১৯৪৭ সালে  ভারত বিভাগের পর লীলা নাগ কলকাতায় চলে যান এবং সেখানেও কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।

লীলা রায় ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামের একজন নেত্রী ছিলেন । এজন্য কয়েকবার তাঁকে কারা বরণ করতে হয়। তিনি মহিলা সমাজে মুখপত্র হিসেবে “জয়শ্রী” নামে একটি পত্রিকা বের করেন। লীলা রায় ছবি আঁকতেন এবং গান ও সেতার বাজাতে জানতেন।
দিপালী সংঘ  একটি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন।

১৯৭০ সালের ১১জুন  এই মহীয়সী নারী কলকাতায় মৃত্যুবরন করেন।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ