একগুচ্ছ কবিতা // মৃধা আলাউদ্দিন

মৃধা আলাউদ্দিন। মাতা : ফুলবানু বেগম। পিতা : মৃত মোসলেম মৃধা। জন্ম : ০২.০২.১৯৭৮। কাংশী, উজিরপুর, বরিশাল। কবি, কথাশিল্পী ও প্রাবন্ধিক। মৃধা নব্বই দশকের অন্যতম নিভৃত কবিদের অন্যতম একজন। লিখছেন গল্প, কবিতা, ছড়া ও সমালোচনা সাহিত্য। দেশের জাতীয় দৈনিক ও লিটলম্যাগে নিয়মিত তার লেখা ছাপা হচ্ছে। মৃধা একজন ছন্দ সচেতন নাগরিক কবি। তার কবিতায় উঠে এসেছে সমাজের কুসংস্কার, নীতিহীন-বিপ্রতীব সময়ের ছবি, নোংরা রাজনীতি এবং একই সাথে নিপুণ কারিগরের মতো মৃধা তার কবিতায় প্রেম, দ্রোহ ও ভালোবাসার গান গেয়েছেন। সমাজ বিনির্মাণের গাথা কবিকে আলাদা বৈশিষ্ট্য দান করেছে। কবির দোঁহাগুচ্ছ কাপলেটে পরিণত হয়েছে বলেই পাঠক সমাজের দৃঢ় বিশ্বাস। নিঃসন্দেহে বলা যায় সমালোচনা সাহিত্যে কবি তার নিজস্ব জায়গা তৈরি করে নিয়েছেন। কবি মৃধা আলাউদ্দিনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ রৌদ্দুরে যায় মন (প্রকাশকাল : ২০০৫), প্রকাশক : রেলগাছ, মগবাজার, ঢাকা-১২১৭। সামনের শীতে মানুষ রৌদ্র হবে (প্রকাশকাল : পহেলা জানুয়ারি, ২০২০। প্রকাশক : রাজুব ভৌমিক, ফিফথ এভিনিউ, ৩০তম রোড, ম্যানহাটন, নিউইয়র্ক। পরিবেশক : বার্নস এন্ড নোবল, ১২২ ফিফথ এভিনিউ, রোড, ২, নিউইয়র্ক-১০০১১। প্রকাশিতব্য গ্রন্থ : প্রজাপতি হয়ে গ্যাছে কোনো কোনো মাছ (কবিতা), জঙধরা পিনালকোড (গল্পগ্রন্থ), চড়–ইয়ের চিড়িপ চিড়িপ শব্দ (কিশোর কবিতা), শুঁড়িখানার নরম দেহ (দোঁহা কাব্যগ্রন্থ), অল্পকিছু বিষ প্রয়োজন (দোঁহা কাব্যগ্রন্থ), আল মাহমুদ ও অন্যান্য সন্দর্ভ প্রভৃতি। কবি মৃধা আলাউদ্দিন দুই ছেলে সন্তানের জনক। মৃধা শব্দশীলন সাহিত্য একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও চেয়ারম্যান। পুরস্কার ও সম্মাননা : অতীশ দীপঙ্কর স্বর্ণপদক। বঙ্গভ‚মি সাহিত্য সম্মাননা, বঙ্গভ‚মি সাহিত্য পরিষদ। শীর্ষবিন্দু সাহিত্য পদক, শীর্ষবিন্দু লিটলম্যাগ। বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য সমিতিপ্রাপ্ত ক্রেস্ট ও স্বর্ণপদক। সম্পাদনা : একটি কাব্যভাঁজ (লিটলম্যাগ প্রায় ১০টি সংখ্যা বের হয়ে অর্থাভাবে বন্ধ হয়ে গেছে লিটলম্যাগটি)। মৃধার সম্পাদনায় বের হয়েছে সিলেটের মরহুম কবি মিছবাহুল ইসলাম চৌধুরীর কবিতা ‘শেরশাহ’ (একটি মহাকাব্য)। কবি মৃধা আলাউদ্দিন বর্তমানে একটি জাতীয় দৈনিকে কর্মরত আছেন।

প্রজাপতি হয়ে গেছে কোনো কোনো মাছ

#

নদী আর নারীর মাংস খেয়ে দেখি, আহা
উড়ে যায় শীতের পাখি;
ঘাস-মাটি, হিজল ফুল, ঝরা ম্যাপল পাতা
রাস্তা পড়ে থাকে রাস্তায়…

নদী আর নারীর মাংস খেয়ে দেখি, আহা
সব বসন্তে ভরে আছে ফুল
কৃষ্ণচূড়া-কৃষ্ণচূড়া, নটি-নাইটংগেল
পাপড়িগুলো ফুল হয়ে মেলে দেয় ডানা

নদী আর নারীর মাংস খেয়ে দেখি, আহা
আকাশে ভেঙে পড়া সন্ধ্যার সুর
রাত্রি-রাত্রি, বরফের বইড়ি ছল;
ফুঁ দেই ফেটে যায় আকাশের চাঁদ

নদী আর নারীর মাংস খেয়ে দেখি, আহা
প্রজাপতি হয়ে গেছে কোনো কোনো মাছ
ইলিশ, বেলে, বাইম… সমুদ্র-সাগর
এবং আপেলগুলো বদলে যায়

নীল ঢেউ, পাখির গুঞ্জন কাফকার আকাশ
এবং হরিণ হয় কোনো কোনো মাছ…

আলোর বৃষ্টি

#

চোখের গভীরে রোদ-রাত্রি
কঠিন-কোমল সৌন্দর্যের মর্মর পাথর
হাঁসগুলো ভেসে যায় বিশাল সমুদ্রে
জলের উজানে ভাসে জলমুগ্ধ মাছ শব্দহীন

বর্ষায়-বৃষ্টিতে ফোটে ফুল
উল্লসিত পাথর-পৃথিবী
ঝরে যায় প্রতারক প্রেম-জোছনা
অবিশ্রান্ত বৃষ্টির মেঘ
অসীম বিশ্বাসে ছুটে আসে প্রজ্বলিত ঘোড়া
এক আলোর পৃথিবী।

আমার সুখগুলো…

#

তুষার খণ্ডিত লাল-নীল, ঝলমলে মোহময় রাতে
আমি ভেসে যাই নীল নয়নার মাতাল নৃত্যে
শাওন অথবা বৃষ্টির বেখেয়ালি বাতাসে
বাইরে-বারান্দায়…
পুড়তে থাকি পূর্ণিমা বা অসম রোদে।

অথচ
একদিন প্রবল বিশ্বাসের মতো আমার সুখগুলোর
আশ্রয় ছিল প্রিয়ার আঁচলে শুভ্র-শান্তির অভয়ারণ্যে।



তৃষ্ণা 

#

দ্রিমিদ্রিমি বেজেই চলেছে আশ্বিনের ওই কাসরঘণ্টা---
অথচ তুমি নেই, নেই দীপাবলি
আমার পূজার ফুল...
একেলা চলতে চলতে ক্লান্ত আমি
বড্ড পোড়ায় বেলা এখন আমাকে
দোহাই তোমার আমাকে পোড়াও তোমার জোছনার জলে
আমি জলের পাড়ে খুঁজে ফিরি জল...

লেখক: কবি, কথাশিল্পী,প্রাবন্ধিক।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ