রূপালী মান্না
রাত
পরিচ্ছেদ -এক
মাসটা ছিল শ্রাবণ ,রাত্রি প্রায় এগারোটা ।চারদিকে বজ্রবিদ্যুত সহ প্রবল বৃষ্টিপাত হচ্ছে ।চারদিকে ঘন অন্ধকার ।প্রকৃতির সেকি নির্মম প্রতিকূলতা ,প্রবল বারিধারা যেন প্রকৃতি কুলোয় করে ঢেলে দিয়েছে ।
ঠিক এরকম সময় বিয়ের সাজে সজ্জিতা এক সুন্দরী মেয়ে ঊর্ধ্বশ্বাসে স্কূটি গাড়িতে চেপে একাকী চলেছে ।মেয়েটির বয়স প্রায় বছর বাইশ ,
রূপলাবণ্যে যেন সারদাসুন্দরী কেও হার মানায় ।এত রাত্রিতে প্রতিকূল প্রকৃতিকে উপেক্ষা করে সে এগিয়ে চলেছে ।
হঠাত্ এক সুমো ভর্তি যুবকের দল তাকে পিছন পিছন ধাওয়া করে এবং ধরেও ফেলে ও ঘিরে ধরে অট্টহাসি হাসতে থাকে ।
তাদের মধ্যে এক যুবক বলে -পালাবে কোথায় ?আমার হাত থেকে পালিয়ে যাবে কোথায় ?
যুবতী বলে -দেখো পথ ছাড়ো ,আজ আমার ভীষণ বিপদ ।
যুবক বলে -সেই বিপদের লাল সংকেত আজ আমি তোমার কপালে এঁকে দেব।
যুবতী আর কোন বিপদের তোয়াক্কা না করে গন্তব্যস্থলে পৌঁছানোর তাড়নায় নিজের খোঁপার কাজললতা দিয়ে যুবকের মাথা ফুটো করে দেয় ।ফিচকিরি দিয়ে রক্ত বেরোতে থাকে ।যুবকের মধ্যে আরও যে কয়জন ছিল তাদের মধ্যে দুজন কে একই ভাবে আঘাত করল ।
সত্যি সেদিন হরিণের কপালে বিপদের রেড সিগনাল জ্বলে উঠেছিল ।অবশেষে সমস্ত বাধা উপেক্ষা করে হরিণ এসে পৌঁছল স্থানীয় হাসপাতালে ।হাসপাতালে এসে রিসেপশনিস্ট প্রবাল গোস্বামীকে জিজ্ঞাসা করে -দাদা সন্ধ্যার সময় আশঙ্কাজনক অব্স্থায় কোনো পেসেণ্ট এসেছে?
রিসেপশনিস্ট প্রবাল বলে এভাবে বললে হবে না ,নাম ঠিকানা বলুন ।হরিণ সবিস্তারে নাম ঠিকানা জানায়।
রিসেপশনিস্ট বলে হ্যাঁ এই নামে একজন সন্ধ্যায় ভর্তি হয়েছিল তবে অবস্থা আশঙ্কাজনক থাকায় প্রাথমিক চিকিত্সা করে কলকাতা মেডিকেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে ।
হরিণ বলে -দাদা আমার একটা উপকার করতেই হবে ।
রিসেপশনিস্ট বলে বলুন আপনার জন্য কি করতে পারি ?সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টার ত্রুটি রাখব না ।
হরিণ বলে আমায় কিছু টাকার ব্যবস্থা করে দিতে হবে ।
আগেই বলেছিলাম হরিণ ছিল অসাধারণ সুন্দরী ,কাজেই সুন্দর মুখের জয় সর্বত্রই ।রিসেপশনিস্ট প্রবাল তাকে যেকোনো সাহায্যের জন্য প্রস্তুত ছিল ,আর কিছু টাকার ব্যবস্থা করে দেওয়া তো একেবারেই সহজ কাজ ।কিন্তু হরিণ একজন অচেনা ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নিতে চায়নি ।তাই নিজের গায়ের গয়না খুলে দিয়ে টাকা নেয়।
তারপর শুরু হল তার দুঃসাহসিক জার্নি ।
পরের পাতায়

0 মন্তব্যসমূহ