কবি কাজী রোজী গুরতর অসুস্থ্য- দেশেবাসীর কাছে দোয়া চাই
কাজী রোজী ১৯৪৯ সালের ১ জানুয়ারি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সাতক্ষীরায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম কাজী শহীদুল ইসলাম। শিক্ষাজীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে তিনি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। কর্মজীবনে সরকারি চাকুরীতে যোগদান করেন এবং ২০০৭ সালে তথ্য অধিদফতরের একজন কর্মকর্তা হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন।
কাজী রোজী একজন বাংলাদেশী কবি ও রাজনীতিবিদ যিনি দশম জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী (আসন-৪৩) আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। তিনি জাতীয় সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনে প্রথমাবস্থায় নির্বাচিত অপর ৪৭ জন সদস্যের সাথে ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ “সংসদ সদস্য” পদে নির্বাচিত হন।
কবিতায় বিশেষ অবদানের জন্য ২০১৮ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ও ২০২১ সালের বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদক লাভ করেন।
লেখক সম্পাদনা
রোজী ১৯৬০-এর দশকে কবিতা লেখা শুরু করেন। রোজীর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হলো:
• পথঘাট মানুষের নাম (কাব্যগ্রন্থ)
• নষ্ট জোয়ার (কাব্যগ্রন্থ)
• আমার পিরানের কোনো মাপ নেই (কাব্যগ্রন্থ)
• লড়াই (কাব্যগ্রন্থ)
• শহীদ কবি মেহেরুন নেসা (জীবনী গ্রন্থ)
• রবীন্দ্রনাথ : রসিকতার কবিতা (গবেষণাগ্রন্থ)
কবি কাজী রোজী একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধী আবদুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষী দেওয়া, চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের সদস্য হিসেবে সিনেমা দেখা, জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরামের সঙ্গে কাজ করা, জাতীয় কবিতা পরিষদের সম্পাদকীয়মণ্ডলীর সদস্যের দায়িত্ব পালন—এসব নিয়ে ব্যস্ত থাকেন কবি কাজী রোজী। ২০ বছর আগে এই কবির স্তন ক্যানসার শনাক্ত হয়। তাঁকে দেখে অন্য রোগীরা মনে সাহস পান।
লেখালেখিসহ প্রতিদিনের কর্মব্যস্ততায় চাপা পড়ে যায় কাজী রোজীর ভয় ও যন্ত্রণা। কবিতা লিখেছেন ক্যানসার নিয়ে। ক্যানসারের সঙ্গে বসবাসের ১৫ বছর পূর্তিতে প্রথম আলোর পক্ষ থেকে ‘নারী শক্তি সম্মাননা’ পাওয়ার বিষয়টি গর্বের সঙ্গে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, ক্যানসার রোগীদের এভাবে সাহস জোগালে তাঁদের পক্ষে লড়ে যাওয়াটা সহজ হয়।
১৯৯৪ সালের ১ জানুয়ারি। গোসল করতে গিয়ে স্তনের মধ্যে শিমের বিচির মতো কিছু একটা টের পান কাজী রোজী। লজ্জা, ভয় সবকিছু পেছনে ফেলে ছোট ভাই ও চিকিৎসক কাজী সুপ্রিয় হিল্লোলকে বিষয়টি জানান তিনি। তারপর শুরু হয় চিকিৎসা। কেমো থেরাপি নিতে হয়েছে। কেটে ফেলতে হয় একটি স্তন। মাথার চুল পড়ে যায়। গত তিন বছরের বেশি সময় ধরে তিনি শক্ত খাবার খেতে পারছেন না। কাজী রোজী প্রথম আলোকে বলেন, ‘বেঁচে আছি। স্তন হারানোর ফলে আমার মন খারাপ হয়নি।’
একমাত্র মেয়ে সুমি সিকান্দারের সঙ্গে। মেয়ের জামাই, দুই নাতি নিয়েই এখন তাঁর সংসার।
কাজী রোজী বলেন, ক্যানসার মোকাবিলায় প্রথম প্রয়োজন মনের ভেতরের সাহস ও মনোবল। তারপর লাগে পরিবার, আত্মীয়স্বজন, বন্ধু ও কর্মস্থলের সহযোগিতা। আর কাজের মধ্যে ব্যস্ত থাকা খুবই জরুরি।
ব্যস্ততার মধ্যেও কাজী রোজী নিয়ম মেনে চলেন। ওষুধ খেতে ভুল করেন না। অন্যদের সচেতন করার সময় তিনি মেয়ে বা নারীরা যাতে স্তন ক্যানসার নিয়ে লজ্জা না পান, প্রয়োজনে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।
ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করা এই সংগ্রামী নারীর শেষ ইচ্ছা, অসুস্থ হয়ে যেন বিছানায় পড়ে থাকতে না হয়।ভীষণভাবে অসুস্থ্য হয়ে পরেছেন এই মহিওষী নারী। তার সুস্থ্যতার জন্য দেশবাসীর কাছে তার পরিবারের পক্ষ থেকে দোয়া চেয়েছেন।
0 মন্তব্যসমূহ