রূপালী মান্না
রাত
পরিচ্ছেদ -তিন
তখন রাত্রি প্রায় আড়াইটা ।লকাপে কয়েকজন কয়েদী মহিলা হরিণকে দেখে দুঃখ প্রকাশ করে এমন অবস্থার কারণ জানতে চায় ।আশ্চর্যের কথা এমন অবস্থাতেও সে যে বর্ণনা দিয়েছিল তা থেকে বোঝা যায় সেই রাতই ছিল এই রাতের কারন ।
গ্রামটার নাম ছিল নাজানিপুর ।শহর কলকাতা থেকে পঞ্চাশ কিমি দূরে ।হরিণের বয়স তখন আঠারো বছর ।হরিণ ছিল মিষ্টি স্বভাবের ।অসাধারণ লাবণ্যময়ী ,হরিণের মতো ছিল তার চোখদুটি ,তাই তার দাদু আদর করে নাম রেখেছিল এনাক্ষী।হরিণ নামেই সে বেশি পরিচিত ছিল ।
হরিণ তখন উচ্চমাধ্যমিক দেবে।হরিণ সহ একদল কিশোর কিশোরী প্রাইভেট টিউশন পড়তে যেত পাশের গ্রামের টিউটর অরুণেশের কাছে ।
অরুণেশ ছিল বছর ছাব্বিশের এক যুবক ।বলিষ্ঠ ,সুপুরুষ ,একটু গম্ভীর স্বভাবের কিন্তু সত্ ,ন্যায়পরায়ন ,পরপোকারী ও স্বল্পভাষী ।নিজের অর্জিত সম্মান ধরে রাখতে সে ছিল বদ্ধপরিকর ।অরুণেশ আর পাঁচজন ছাত্রীর মতো তাকে স্নেহ করলেও ঠোঁটের কোণে এক টুকরো আলতো হাসির মতোই মনের কোণে ছিল এক মিষ্টি আকর্ষণ ।অরুণেশের মাও হরিণকে ভীষণ পছন্দ করতেন এবং স্নেহও করতেন ।মাঝে মাঝেই বলতেন আমার প্রীতম ও অরুণেশের জন্য এমন মেয়ে পেলে বেশ হয় ।
দেখতে দেখতে হরিণের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষাও শেষ হল ।হরিণের ইচ্ছে সঙ্গীত নিয়ে পড়াশোনা করবে কিন্তু তার বাবা চেয়েছিলেন জি.এন .এম নার্সিং নিয়ে পড়াবে তাতে চাকরি পেতে সুবিধা হবে
এই নিয়ে বাড়িতে ঝামেলা শুরু হয়,হরিণের বাবা রাগে ক্রুদ্ধ হয়ে তাকে আ্যডমিশন নিতে নিয়ে গেলেন না এমনকি একটি পয়সাও দিলেন না ।
কলেজে ভর্তির ব্যবস্থা করার জন্য অরুণেশের কাছে অনুরোধ জানায় হরিণ।অরুণেশ প্রথমে ইতঃস্তত করলেও মায়ের কথায় রাজি হয়।
হরিণের বাড়ি থেকে নিশিকান্তপুর মহাবিদ্যালয়ের দূরত্ব ছিল চল্লিশ কিমি।দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে কাউন্সিলিং শেষে আ্যডমিশন নিতে প্রায় সন্ধ্যা হয়ে গেছে।বাড়ি ফেরার পথে আকাশ ঝেঁপে বৃষ্টি নামল।মেঘমল্লারে মুখরিত পৃথিবী,আকাশে বিদ্যুতের সে কি অপরূপ খেলা ।প্রবল বারিধারায় প্লাবনপ্রায় অবস্থা।
ট্রেন থেকে তারা যখন নামল তখন রাত্রি প্রায় ন'টা
লাস্ট বাস তখন ছেড়ে বেড়িয়ে গেছে।নিরুপায় হয়ে এক মারুতি চালককে অনুরোধ করে । মারুতিচালক প্রথমে রাজি না হলেও বেশি টাকার শর্তে রাজি হয়।প্রায় কিমি দুই রাস্তা যেতেই মারুতি যায় খারাপ হয়ে ।
পরের পাতায়.....

0 মন্তব্যসমূহ